প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার দেবীদ্বারে চাঞ্চল্যকর ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের তৃতীয় দিনে হত্যায় ব্যবহৃত দা, নিহতের স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের কাছে খবর রয়েছে, বর্তমানে নিহতের হাত-পায়ের অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় পুলিশ আটক করেছে লাইলী আক্তারকে, তবে আর কাউকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি।
সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরে ফরিদা ইয়াসমিনের বাসায় অভিযান পরিচালনা করে এসব আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আটক লাইলী আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ডে লাইলী আক্তারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরিদা ইয়াসমিনের বাসার রান্নাঘরে একটি তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে একটি ড্রামের চিপায় লুকানো অবস্থায় নিহতের ব্যবহৃত এক জোড়া কানের দুল, একটি গলার চেইন, একটি আংটি ও নগদ ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দা এবং টয়লেটের কমোডের ভেতরে আলমারির চাবি উদ্ধার হয়েছে, যেটা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নিহত ফরিদা ইয়াসমিন (৫৫) দেবীদ্বার পৌর এলাকার ফতেহাবাদ ভূঁইয়া বাড়ির মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার (৬৫) স্ত্রী ছিলেন। তিনি প্রায় ৩০ বছর আগে ওই বাসা কিনেছিলেন এবং সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।
পুলিশ জানায়, আটক লাইলী আক্তার চারানগর গ্রামের ট্রাক্টরচালক আবুল কালামের স্ত্রী। স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের কারণে তিনি ফরিদা ইয়াসমিনের বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, লাইলী আক্তার এর আগে ২০২১ সালের একটি শিশু হত্যাকাণ্ডের মামলায় কারাগারে ছিলেন এবং প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগের পর জামিনে বের হন। সেই মামলার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বর্তমানে তদন্ত করা হচ্ছে।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আলোচিত মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। লাইলী আক্তারকে তিন দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা, কিছু স্বর্ণালংকার ও আলমারির চাবি উদ্ধার হয়েছে। তবে তাঁর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
ওসি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘুমন্ত অবস্থায় বালিশ চাপা দিয়ে ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর মরদেহের অংশগুলো আলাদা করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত কি না এবং নিহতের মরদেহের বাকি অংশ কোথায় রয়েছে, তা জানতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাসায় ফরিদা ইয়াসমিনের মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে মরদেহ টুকরো করে ১৪টি পলিথিনে প্যাকেট করে বস্তাবন্দি অবস্থায় ঘরের পেছনসহ বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখা হয়েছিল। তবে মরদেহের হাত-পায়ের কিছু অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন