প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই কার্যক্রমে এলাকার পাহাড়ের স্বাভাবিক গঠন এবং পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্ষা মৌসুমে পাহাড় দুর্বল হয়ে যেকোনো সময় ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন এলাকাবাসী।
রোববার (২ আগস্ট) রাইখালী ২ নম্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খন্তাকা এলাকায় সরেজমিনে এ চিত্র দেখা গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে该 এলাকায় পাহাড় কেটে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু বিভিন্ন যানবাহনে করে এলাকার বাইরে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও তাদের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমির মালিক শহিদুল হক (শইক্যা) এবং তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত মিজান নামে এক ব্যবসায়ীর তত্ত্বাবধানে পাহাড় কেটে এভাবে বালু উত্তোলন চলছে। তাদের দাবি, নির্বিচারে পাহাড় কাটার ফলে একদিকে যেমন পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে মাটির ক্ষয় বাড়ছে এবং পাহাড়ের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, চলমান বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত হলে কাটা পাহাড়ের মাটি ধসে পড়তে পারে। এতে আশপাশের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও মানুষের জীবন-জীবিকা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। তারা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দিন দিন পাহাড় কেটে বালু উত্তোলনের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, নির্বিচারে পাহাড় কাটা শুধু পরিবেশের জন্যই ক্ষতিকর নয়; এর ফলে জীববৈচিত্র্য, কৃষিজমি ও আশপাশের বসতবাড়িও হুমকির মুখে পড়তে পারে। তারা তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, পরিবেশ ও জননিরাপত্তার স্বার্থে অবৈধ পাহাড় কাটা এবং বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শহিদুল হক (শইক্যা) ও মিজানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করে পরিবেশ রক্ষা, পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন