প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শীর্ষ শিক্ষাব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ককরোচ আন্দোলন বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। এই আন্দোলন গত মাসের শুরুর দিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ ছিলো। তবে এখন এটি শিক্ষাব্যবস্থা, কর্মসংস্থান এবং সরকারের জবাবদিহির প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বিস্তৃত হয়ে গেছে। এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনকে নতুন করে নড়েচড়ে বসতে হয়েছে।
জেন-জিদের এই বিশাল বিক্ষোভ মোদি সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্দোলনকারীরা এবার সরাসরি মোদি সরকারের জবাবদিহি চাইছেন। প্রথম দিকে মাত্র একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ছিল তাদের ক্ষোভ, কিন্তু এখন তারা পূর্ণ শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতার দায় চাপাতে শুরু করেছেন।
বিক্ষোভকারীরা জানাচ্ছেন, শুধু মন্ত্রী বদলে কিছু হবে না, তারা পুরো সরকারের জবাবদিহি দাবি করছেন। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই আন্দোলন পূর্ববর্তী অনেক বিক্ষোভ থেকে ভিন্ন এবং এটি সরকারের উপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। আগের আন্দোলনগুলোতে সরকার ধর্ম, জাতি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের মাধ্যমে বিক্ষোভকে বিভক্ত করতে পারলেও, এবারের আন্দোলন বাস্তব সমস্যার ভিত্তিতে গঠিত। কর্মসংস্থান, পরীক্ষা, শিক্ষা এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা কেন্দ্রিক এই আন্দোলনকে নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর আন্দোলন হিসাবে দেখা হচ্ছে না।
এই আন্দোলন এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চললেও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কোনো প্রতিনিধি এখনও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেননি। শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশ্ন করছেন, প্রশ্ন ফাঁসের দায় কার, কী সংস্কার হবে, কেন কেউ দায় স্বীকার করছেন না—এগুলো জানতে চাইছেন।
আন্দোলনের ৩২তম দিনে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, উভয় পক্ষের অবস্থান এখনও কঠোর হয়ে রয়েছে। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আলোচনা শুরু করতে হলে প্রথম উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকেই নিতে হবে।
অন্যদিকে বিরোধী জোটও সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ তুলে চাপ বাড়িয়ে চলেছে সংসদ ও রাজপথে। বুধবার সকালে যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে।
যাবতীয় ঘটনার মধ্যে বুধবার বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) যখন তাকে আটক করা হয় তখন পুলিশের একজন সদস্য কানে কানে বলেন, এই (মোদি) সরকারের পতন ঘটাও।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন