০৩:২৬ পি.এম
রাশিয়ার একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলে ইউক্রেনজুড়ে অন্তত ৬ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় সময় এই হামলাগুলো চালানো হয়, যার ফলে রাজধানী কিয়েভে অন্তত তিনজন নিহত এবং ২১ জন আহত হয়েছেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।
আরও পড়ুন: শতবর্ষের দুর্লভ ছবিতে জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনের ইতিহাস তুলে ধরলেন মুহাম্মদ হাশেম ঘুশা
ইউক্রেনের জরুরি পরিস্থিতিবিষয়ক রাষ্ট্রীয় সংস্থা ডিএসএনএস জানায়, কিয়েভে হামলায় তিনজন নিহত এবং ২১ জন আহত হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রাতে চালানো ‘ব্যাপক’ হামলায় কিয়েভ ও খারকিভ অঞ্চলে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর যোগাযোগ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এছাড়া, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, রাতভর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের ৯০২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এই অঞ্চলের মধ্যে রাজধানী মস্কো এবং ২০১৪ সালে রাশিয়ার দখলে নেওয়া ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপদ্বীপ ক্রিমিয়াও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, রাশিয়া রাতভর ৩৯টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২৮টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। তাদের দাবি, এর মধ্যে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১১৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ব্রাজিলে আমাজনের বন উজাড় রেকর্ড পরিমাণে কমেছে
যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছিলেন, "অবিলম্বে রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে। দুই পক্ষই এতে সম্মত হয়েছে। এটি ভঙ্গ করবেন না।"
জেলেনস্কি বারবার বলেছেন, যদি মস্কো একই পদক্ষেপ নেবে, তাহলে ইউক্রেনও রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও অন্যান্য জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত।
তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে যে সাময়িক স্বস্তি আসবে, ইউক্রেন তার যোগ্য নয়। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধবিরতি হলে ইউরোপ ইউক্রেনে আরো অস্ত্র সরবরাহ করতে পারবে, যাতে দেশটি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আরও পড়ুন: হরমুজে পুঁতে রাখা মাইনে সুপারট্যাংকারে বিস্ফোরণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন