প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত, দলের জন্য কে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। ইতিবাচক রাজনীতি, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সাংগঠনিক অবদানের মাধ্যমে নেতৃত্বের জায়গা তৈরি করতে হয়।
রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে সাবেক হুইপ ও বিএনপির প্রবীণ নেতা মরহুম মশিউর রহমানের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, রাজনীতিতে নেতৃত্বের জায়গা তৈরি করতে হয় কাজের মাধ্যমে। ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত, দলের জন্য কে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
মশিউর রহমানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, তার মতো নিবেদিতপ্রাণ ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাব আজ অনুভব হচ্ছে। তিনি ঝিনাইদহে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করে গেছেন, যার প্রভাব খুলনা বিভাগে বিস্তৃত হয়েছিল। জাতীয় পর্যায়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভূমিকা রেখেছেন।
আইনমন্ত্রী ঝিনাইদহের রাজনীতিতে মশিউর রহমানের অবদান ও নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, তার অনুপস্থিতিতে গত নির্বাচনে ঝিনাইদহের চারটি আসনের মধ্যে তিনটি আসন পুনরুদ্ধার করতে না পারার বিষয়টি আমাদের জন্য বেদনাদায়ক। তিনি যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি হয়তো ভিন্ন হতো। মৌলবাদ মোকাবিলা ও মাদকবিরোধী সংগ্রামে তার অবদানও উল্লেখযোগ্য ছিল।
আইনমন্ত্রী বিএনপির সাংগঠনিক ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ঝিনাইদহের তিনটি আসন পুনরুদ্ধার করতে না পারার দায় কোনো একক ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। এটি সম্মিলিত সিদ্ধান্তহীনতা ও ভুল সিদ্ধান্তের ফল। এ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
দলের নেতাকর্মীদের রাজপথে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির আদর্শের ভিত্তি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও নেতৃত্ব। মশিউর রহমান বিএনপির আদর্শ ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দলের অন্যতম ভ্যানগার্ড ছিলেন।
আগামী দিনের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নেতৃত্ব কখনো স্থির বা কারও কাছে চিরস্থায়ীভাবে বন্দি থাকে না। যোগ্যতা, দক্ষতা ও সাংগঠনিক অবদানের মধ্য দিয়ে প্রত্যেকেরই নেতৃত্বে আসার সুযোগ রয়েছে।
এ সময় বিএনপির বর্তমান মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তারা ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের চেয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার কাজে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা নতুন প্রজন্মের নেতাকর্মীদের জন্য অনুসরণীয়।
ঝিনাইদহের উন্নয়ন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী জানান, ঝিনাইদহ সদর হয়ে মাগুরা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঝিনাইদহের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ আরও সহজ ও উন্নত হবে। সরকার এটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করছে।
এ ছাড়া দ্বিতীয় যমুনা সেতুর পরিবর্তে পদ্মা ও যমুনা নদীর ওপর ওয়াই-আকৃতির সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ বিষয়ে সমীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল আলিম। আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সহসম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী হাসান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক সহসম্পাদক মনির খানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন