প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোনার পূর্বধলায় এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। সাধারণ শিক্ষাধারার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষায়ও দেখা দিয়েছে হতাশাজনক চিত্র। একটি প্রতিষ্ঠানের পাসের হার নেমে এসেছে মাত্র ৬ দশমিক ৮১ শতাংশে।
৩১ অক্টোবর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, সাধারণ শিক্ষাধারার খলিশাপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এম্বিশন মডেল কলেজ এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
উপজেলার সাতটি সাধারণ কলেজ থেকে এবার মোট ২ হাজার ৪৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৭৪২ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৩০৫ জন। এ বিভাগে সামগ্রিক পাসের হার ৩৬ দশমিক ২৪ শতাংশ।
সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি (বিএম) শাখার ফলাফলও উদ্বেগজনক। এ শাখার তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২৩২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৮৩ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১৪৯ জন। সামগ্রিক পাসের হার ৩৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
কারিগরি শাখার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে ইকরা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৪৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৩ জন। পাসের হার ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ। জটিয়াবর কলেজ থেকে ৪৯ জনের মধ্যে পাস করেছে ১০ জন, পাসের হার ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর পূর্বধলা সরকারি কলেজ থেকে ১৩৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭০ জন।
তবে সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষার এমন হতাশাজনক ফলাফলের বিপরীতে তুলনামূলক ভালো করেছে মাদ্রাসা বিভাগ। উপজেলার তিনটি মাদ্রাসা থেকে ৫৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩১ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৫৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
একই উপজেলায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া এবং কারিগরি শিক্ষায় পাসের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষক সমাজের মতে, নিয়মিত পাঠদান না হওয়া, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিতি এবং যথাযথ মূল্যায়নের ঘাটতি এ ফলাফলের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা প্রয়োজন।
শিক্ষার মানোন্নয়নে এসব প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন