প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহের নান্দাইলে একটি ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী, যার নাম নোয়াদ জামান, তাকে বমির ওষুধের পরিবর্তে মুরগির অ্যান্টিবায়োটিক রেনামাইসিন’ খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে। মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটিকে ময়মনসিংহ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে, ময়মনসিংহের নান্দাইলে ঝালুয়া বাজারে।
নোয়াদ, যিনি নান্দাইল সদর ইউনিয়নের ভাটিসাভার গ্রামের মো. বাসাদুজ্জামানের ছেলে, পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকার সময় তার প্রচণ্ড মাথাব্যথা ও বমি বমি ভাব শুরু হয়। তার অবস্থা দেখে, ওই বাড়ি থেকে একজনকে দ্রুত স্থানীয় ঝালুয়া বাজারে বমির ওষুধ কিনতে পাঠানো হয়। বাজারের ইসলাম ফার্মেসিতে গিয়ে ফার্মেসিওয়ালা মানুষের বমির ওষুধের পরিবর্তে অসচেতনভাবে পশুর চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক ‘রেনামাইসিন’ ট্যাবলেট দেন। পরে শিশুটি ওই ওষুধ খাওয়ার পরপরই বুকে ও পিঠে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করতে থাকে। ব্যথার তীব্রতায় ছটফট করতে করতে একপর্যায়ে সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে দ্রুত নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাৎক্ষণিক জরুরি ইনজেকশন দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদরে স্থানান্তর করেন।
নোয়াদের বাবা আসাদুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঝালুয়া বাজারের ওই ফার্মেসিতে মানুষের ওষুধের পাশাপাশি পশুর ওষুধও রাখা হয় এবং তা নির্বিচারে বিক্রি করা হয়। তিনি প্রশ্ন করেন, "আমার শিশুকে কিভাবে মুরগির ওষুধ দেওয়া হলো?" তিনি লাইসেন্সবিহীন ও কাণ্ডজ্ঞানহীন ফার্মেসিওয়ালার কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, ওই ফার্মেসির মালিকের মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নান্দাইল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. আকাঈদ বলেন, মুরগির ওষুধ মানুষের শরীরে, বিশেষ করে শিশুর দেহে প্রবেশ করলে তা মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এটি জীবন ধ্বংসকারী ও ব্যাপক ঝুঁকিপূর্ণ। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার মতো অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ড্রাগ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা প্রয়োজন।
ময়মনসিংহ জেলা ওষুধ প্রশাসন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ বাদল শিকদার জানান, এটি একটি ভয়ানক ঘটনা। তিনি উল্লেখ করেন, "কোনোমতেই একসঙ্গে গবাদিপশু ও মানুষের ওষুধ রেখে বিক্রি করার নিয়ম নেই।" এ বিষয়ে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন