প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসলে এবার কলারের পরিচয় জানা যাবে। নতুন কলার শনাক্তকরণ ব্যবস্থা ‘কলিং নেম প্রেজেন্টেশন’ (সিএনএপি) আগামী ১ নভেম্বর থেকে ভারতে চালু হতে যাচ্ছে। এই প্রযুক্তি কার্যকর হলে ফোনের স্ক্রীনে অপরিচিত নম্বরের পাশাপাশি সিম নিবন্ধনের সময় দেওয়া নামও প্রদর্শিত হবে।
ভারতের টেলিযোগাযোগ বিভাগ (ডিওটি) দেশের সকল টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে এই সেবা চালুর নির্দেশনা প্রদান করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
যেভাবে কাজ করবে নতুন প্রযুক্তি
ভারতে তৈরি সিএনএপি প্রযুক্তি প্রাথমিকভাবে ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্কে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ২জি ও ৩জি নেটওয়ার্ক এবং ল্যান্ডলাইন ফোনের জন্যও এই সেবা চালুর আলাদা পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থায় ফোনে যদি কোনো নম্বর আগে থেকে সংরক্ষিত থাকে, তবে সেই নাম দেখা যাবে। অন্যদিকে, যদি নম্বরটি সংরক্ষিত না থাকে, তাহলে সিম নিবন্ধনের সময় দেওয়া নাম প্রদর্শিত হবে। বিদেশ থেকে আসা কলের ক্ষেত্রে কলারের নামের পরিবর্তে ‘আন্তর্জাতিক কল’ লেখা দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এ জন্য টেলিকম অপারেটরদের গ্রাহকদের নাম ও নম্বরের হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণ করে একটি সুরক্ষিত তথ্যভান্ডার তৈরি করতে হবে। কল আসার সময় সেখান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে কলারের পরিচয় প্রদর্শিত হবে।
গোপনীয়তা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা
নতুন প্রযুক্তি চালুর পাশাপাশি গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত সরকার। এ ক্ষেত্রে ‘সিকিউরিটি-বাই-ডিজাইন’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কল শেষ হওয়ার পর কলারের ব্যক্তিগত তথ্য ডেটাবেসে সংরক্ষণ না রাখার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও ‘কলিং লাইন আইডেন্টিফিকেশন রেস্ট্রিকশন’ (সিএলআইআর) সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা বজায় থাকবে। ফলে এই সুবিধা গ্রহণকারী গ্রাহকদের নাম অন্যের ফোনের স্ক্রীনে প্রদর্শিত হবে না।
ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের জন্য নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক অথবা জিএসটি পোর্টালে নথিভুক্ত ব্যবসার নাম প্রদর্শনের সুযোগ থাকবে। তবে এসব তথ্য যাচাই করে অনুমোদন দেবে সংশ্লিষ্ট টেলিকম অপারেটর।
প্রতারণা ঠেকানোর লক্ষ্য
অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা, আর্থিক জালিয়াতি ও সাইবার অপরাধের ঝুঁকি কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, কলারের পরিচয় সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হলে সন্দেহজনক ফোনকল চেনা সহজ হবে এবং প্রতারণার ঝুঁকি কমাতে নতুন এই ব্যবস্থা সহায়ক হবে।
তবে প্রযুক্তিটি চালু হলেও অপরিচিত নম্বর থেকে আসা প্রতিটি কল যে নিরাপদ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই কলারের নাম প্রদর্শিত হলেও ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংকিংয়ের গোপন তথ্য কিংবা ওটিপি শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন