প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে মধ্যরাতে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। প্রবল আকারে ‘ল্যান্ডফল’ ঘটছে। ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ার নিকটবর্তী পুদুচেরীর ইয়ানামের কাছে ‘ল্যান্ডফল’ ঘটে। ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার বেগে বইছে। যা পরে বৃদ্ধি পেয়ে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে বলে জানিয়েছে ভারতের মৌসম ভবন।
মৌসম ভবন বুলেটিনে জানানো হয়েছে, রাত ১টা ২০ মিনিটে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রস্থল অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল এবং ইয়ানামের দক্ষিণের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এ সময় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, সর্বোচ্চ গতি ১৫০ কিলোমিটার। প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে চার ঘণ্টা মতো সময় লাগবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
‘ল্যান্ডফল’ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর অন্ধ্রপ্রদেশে ঝড়ের দাপট আরও বেড়ে গেছে। উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম এবং দক্ষিণ ওড়িশার কিছু অংশে ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগও বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশ কিছু স্থানে বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে ইয়ানামের কাছে জাতীয় সড়কে বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে গাছগুলোর ক্ষতি হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দ্রুত গাছগুলো সরানোর ব্যবস্থা করছে। ঝড়ের কারণে অন্ধ্রপ্রদেশের তিনটি বিমানবন্দরে বিমান পরিবহন স্থগিত রাখা হয়েছে। বেশ কিছু বিমান বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেন পরিষেবাও বাতিল করা হয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যাতে কারও কোনো ক্ষতি না হয়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রায় দুই হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। উপকূল এলাকা থেকে ইতোমধ্যেই বহু মানুষকে সরিয়ে এই কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের উপকূলেও ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। রাতের সময় কলকাতা সহ অন্যান্য জেলাতেও ঝড়ের প্রভাব দেখা গেছে। রাত থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। বুধবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় হলুদ সতর্কতা রয়েছে। ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। চার জেলায় ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে ভারি (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ওই চার জেলায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বৃহস্পতিবারও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ওই দিন ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া। শুক্রবার ঝড়বৃষ্টির জন্য সতর্কতা রয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়ায়।
বৃহস্পতি এবং শুক্রবার ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলায়। বাকি জেলাগুলিতেও ঝড়বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা রয়েছে। বর্ষণের কারণে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামতে পারে বলে সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস। আগামী শনিবার পাহাড় এবং সংলগ্ন পাঁচ জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রে যেতে মৎস্যজীবীদের নিষেধ করা হয়েছে।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন