প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যে তিনি নিজের এক বছরের কন্যাসন্তানকে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে যমুনা নদীতে ফেলে দিয়েছেন। এই ঘটনা ঘটেছে গত বুধবার আগ্রার সিকান্দরা থানার আকবরা যমুনা ব্রিজে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে নদীতে ফেলে দেওয়ার আগে সেলফি তোলার অজুহাত দিয়েছিলেন এবং পরে তিনি তার স্ত্রীকে নদীতে ফেলে হত্যার চেষ্টা করেন। নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে এখন নদীতে তল্লাশি পরিচালনা করছেন ডুবুরিরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম রিংকু এবং তার স্ত্রীর নাম লক্ষ্মী। ঘটনাটি ঘটে যখন তারা মোটরসাইকেলে করে খাদ্য থেকে আগ্রা শহরের উদ্দেশ্যে বের হন। পথে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কিছু বিষয় নিয়ে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
সংকটের শুরুতে লক্ষ্মী জানায়, রিংকু মোটরসাইকেল চালাতে চালাতে আকবরা যমুনা ব্রিজের ওপর হঠাৎ থামান। তিনি বলেন যে, মেয়ের সঙ্গে ব্রিজের ওপর একটি সেলফি তুলতে চান। এরপর তিনি শিশুটিকে কোলে নিয়ে ব্রিজের রেলিংয়ের কাছে গিয়ে একটি ছবি তোলেন। কিন্তু ছবি তোলার পরপরই সবাইকে আতঙ্কিত করে তিনি ফুটফুটে এক বছরের দুধের শিশুটিকে সরাসরি নিচে প্রবহমান যমুনা নদীতে ছুড়ে ফেলে দেন।
লক্ষ্মী এই ঘটনার দৃশ্য দেখে ভযঙ্করভাবে আঁতকে ওঠে এবং চিৎকার করতে করতে স্বামীর দিকে ছুটে যান। তখন পাষণ্ড রিংকু নিজের স্ত্রীকেও ব্রিজের উপরে থেকে নিচে নদীতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। লক্ষ্মীর চিৎকার ও কান্না শুনে সেতুর ওপর পথচারী ও স্থানীয় জনতা জমায়েত হয়। লক্ষ্মী পথচারীদের সামনে পুরো ঘটনা এবং স্বামীর পাশবিক আচরণের কথা তুলে ধরলে ক্ষুব্ধ জনতা রিংকুকে আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
অভিযুক্তকে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। স্ত্রীর লিখিত অভিযোগ এবং প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে সিকান্দরা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নিখোঁজ এক বছরের শিশুটিকে উদ্ধারে দ্রুততার সঙ্গে যমুনা নদীতে নামানো হয়েছে পুলিশ আর্মড কনস্ট্যাবুলারি (পিএসি)-র বিশেষ ডুবুরি দল। তবে সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, নদীর প্রবল স্রোতের কারণে এখনো শিশুটির কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। পুরো ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন