১২:৪৫ পি.এম
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওথমান।
তিনি উল্লেখ করেন, "সামনের দিনগুলোতে আমাদের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরো এগিয়ে নিতে হবে।"
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) মতো কৌশলগত কাঠামো নিয়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির দিকে এগোচ্ছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর শেরাটন ঢাকায় বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিএমসিসিআই) আয়োজিত ‘টুয়ার্ডস এ স্ট্রংগার বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া পার্টনারশিপ’ শীর্ষক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
বিএমসিসিআইয়ের নবনির্বাচিত সভাপতি মো. আনোয়ার শহীদ ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার বলেন, "কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে উষ্ণ ও অনন্য সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতা, শিক্ষা এবং অভিন্ন অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে এ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।"
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "মালয়েশিয়া ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য।"
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
এটি দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে।
মোহাম্মদ শুহাদা ওথমান বলেন, "ওই সফর শুধু একটি কূটনৈতিক মাইলফলক নয়; বরং প্রধানমন্ত্রী দাতো সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুই দেশের সম্পর্ককে আরো বিস্তৃত ও ব্যাপক অংশীদারত্বে উন্নীত করার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন।"
তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রম সহযোগিতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন, সেমিকন্ডাক্টর, হালাল শিল্প, উৎপাদন, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃষি, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা গভীর করার বিষয়ে দুই পক্ষের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
হাইকমিশনার বলেন, "রাজনৈতিক নেতৃত্ব দুই দেশের সম্পর্কে যে গতি তৈরি করেছে, সেটিকে কাজে লাগাতে বেসরকারি খাতকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিএমসিসিআইয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?
বাংলাদেশের বড় ও তরুণ জনগোষ্ঠী, সম্প্রসারিত ভোক্তা বাজার এবং ক্রমবর্ধমান শিল্পভিত্তি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একইভাবে, মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও বৃহত্তর আসিয়ান বাজারে প্রবেশের কৌশলগত সুযোগ তৈরি করতে পারে।
দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে বিএমসিসিআই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সিদ্ধান্তকে বাস্তব বাণিজ্যিক সুযোগ ও অংশীদারত্বে রূপান্তর করতে পারে বলে মন্তব্য করেন হাইকমিশনার।
তিনি জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিনিয়োগ নিয়ে একটি ভার্চুয়াল সেমিনারের আয়োজন করেছে মালয়েশিয়ার হাইকমিশন। এর দুই সপ্তাহ আগে ঢাকায় বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতি নিয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিপুলসংখ্যক শিল্পোদ্যোক্তা অংশ নেন।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, "মালয়েশিয়া হালাল শিল্পে যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা বাংলাদেশের জন্যও অনুসরণীয়। মালয়েশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ এ শিল্পের বিকাশে কাজ করতে পারে।"
মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশিদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, "দেশটির খাবার ও হোটেল খরচ মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের মধ্যে রয়েছে।"
বিএমসিসিআইয়ের নবনির্বাচিত সভাপতি মো. আনোয়ার শহীদ বলেন, "দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সম্পর্ক আরো জোরদার করতে বিএমসিসিআই কাজ করে যাবে।"
মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, "নতুন নেতৃত্বের অধীনে বিএমসিসিআই বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরো শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
তিনি বলেন, "বর্তমান শক্তিশালী রাজনৈতিক গতি, সক্রিয় বেসরকারি খাত এবং বিএমসিসিআইয়ের মতো প্রতিশ্রুতিশীল অংশীদারদের কারণে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া অংশীদারত্বের সবচেয়ে ভালো সময় সামনে অপেক্ষা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন