প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে ‘ভদ্র আচরণ করা উচিত’ বলেই সতর্ক করার পর বুধবার সন্ধ্যা বেলা ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানাচ্ছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ‘জাহাজগুলোকে হুমকি দিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে ব্যবহার’ করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নতুন করে জারি হওয়া অবরোধ লঙ্ঘনের চেষ্টার পরে পৃথক একটি জাহাজে গুলি চালানোর কথাও জানিয়েছে তারা। মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইরান হামলা চালিয়েছে- এমন দাবি করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এদিকে, ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, তেহরান যদি এই চুক্তি থেকে উপকৃত না হয় তাহলে এটি মেনে চলার ‘কোনো কারণ নেই’। মঙ্গলবার দিনের শেষে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান যদি আগামী সপ্তাহে আলোচনায় ফিরে না আসে তাহলে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে।
বুধবার দিনের শেষের সাংবাদিকরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, এমন হামলার আগে ইরানকে কি কোনো ডেডলাইন দেওয়া হবে কি না। তিনি বলেন, ‘আমি ডেডলাইন দিতে পছন্দ করি না। কিন্তু তারা খুব ভালো করেই জানে, তারা পুরো বিষয়টাই জানে.... তাদের ভদ্র আচরণ করা উচিত।’
‘তারা সমাধান করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। আমরা যা করছি, তারা তা পছন্দ করছে না। তাদের সঙ্গে মীমাংসায় যাব, নাকি বিষয়টি পুরোপুরি শেষ করে দেব- আমরা দেখবো’- বলেন ট্রাম্প। গালিবাফ অবশ্য বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের ইরানি আধিপত্য বজায় রাখার ওপর দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা নির্ভর করছে।
তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে যুদ্ধের পাশাপাশি আলোচনা চালানোই ইরানের প্রতিরোধ কৌশলের একটি অংশ। হরমুজ প্রণালিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের যে হুমকি তিনি দিয়েছিলেন, তার পরিবর্তে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বিশাল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি করার খবর জানিয়ে টিআরাম্পের বক্তব্যগুলো আরো বেড়ে যায়।
এর আগে, এপ্রিল মাসে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় বোমা হামলার যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, সেটির জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ফলকার টার্ক নিন্দা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিক এবং বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালানো একটি যুদ্ধাপরাধ।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ এই হামলাগুলো ছিল দ্বিতীয় দফার হামলা, যা বুধবার দিনের আলোতে চালানো হয়েছে বলে তাদের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, দিনের শুরুতে তারা "হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা আরো কমিয়ে দিয়েছে"।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গ্রেটার টুনব দ্বীপে ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে লক্ষ্যবস্তু করতে ৯০ মিনিট একনাগাড়ে হামলা চালানো হয়েছিল। সেন্টকম আরো জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপ করার পর থেকে তারা দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের পথ ঘুরিয়ে দিয়েছে।
এই অবরোধের কারণে কোনো জাহাজই ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকাগুলোতে যাতায়াত করতে সক্ষম হচ্ছে না। গত মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতার অংশ হিসেবে আগে এই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছিল।
ওই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল মাসব্যাপী চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানো। তবে, এই প্রণালি নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধটি এখন একটি বড় দ্বিমতের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ আরোপের জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছে, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের স্বার্থে ব্যবহৃত অন্যান্য তেল ও গ্যাস রপ্তানির রুট বন্ধ হওয়ার অপেক্ষায় থাকে।
কিন্তু কোন কোন রুট এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেনি তারা। চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বৈরিতা বৈশ্বিক অর্থনীতির কাছে এই প্রণালির কৌশলগত গুরুত্বকে আরো স্পষ্ট করে তুলেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের রুটে ট্যাংকার চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ায় তেলের দাম ব্যাপক হারে বেড়ে যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন