প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অতিরিক্ত বন্দীর চাপ কমাতে শ্রীলঙ্কা একটি পরিত্যক্ত হাসপাতাল ভবনে নতুন কারাগার স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। দেশটির অতিরিক্ত বন্দীতে ঠাসা একটি কারাগারে দাঙ্গার ফলে ২০ বন্দী এবং ৮ কারারক্ষী নিহত হওয়ার পর বুধবার বিচার মন্ত্রণালয় এই ঘোষণা দেয়।
কলম্বো থেকে এএফপি জানায়, সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী সহিংসতার পর শ্রীলঙ্কার দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত বন্দীসংকটে থাকা কারাগার ব্যবস্থা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলো তাদের ধারণক্ষমতার প্রায় চার গুণ বন্দী নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
বিচারমন্ত্রী হর্ষণা নানায়াক্কারা দ্বীপটির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত হাসপাতালের একাংশ অধিগ্রহণ করে সেখানে ভিন্ন ভিন্ন কারাগার থেকে বন্দীদের স্থানান্তরের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘গল জেলার মহামোদারায় নতুন কারাগার শুরু করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।’ তবে তিনি এই বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি।
রাজধানী কলম্বোর উত্তরে অবস্থিত নেগোম্বো কারাগারে গত রোববার প্রতিদ্বন্দ্বী দুই অপরাধী চক্রের মধ্যে সংঘর্ষে সাম্প্রতিক বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ কারাগার দাঙ্গার কয়েক দিন পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
এই সহিংসতায় মোট ২৮ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়। আহতদের মধ্যে কিছু লোকের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
বুধবার, জাতীয় পতাকায় মোড়ানো নিহত কারারক্ষীদের কফিন কলম্বোর কারা বিভাগের সদর দপ্তরে আনা হয়, যেখানে সহকর্মীরা তাদের শেষ শ্রদ্ধা জানায়।
প্রাণঘাতী এ দাঙ্গার পর কলম্বোতে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অতিরিক্ত বন্দীসংখ্যা, সেকেলে ব্যবস্থাপনা এবং আটককেন্দ্রগুলোর নিম্নমানের পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরেই শ্রীলঙ্কার কারাগার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’
এর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেশের আরেকটি কারাগারে দাঙ্গায় ১১ বন্দী নিহত এবং ১১৭ জন আহত হয়। ওই ঘটনার পর অতিরিক্ত বন্দীর চাপ কমাতে সরকার শত শত বন্দীকে মুক্তি দিয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন