প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শেষ হবে। তবে আগামীকাল শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) থেকেই বঙ্গোপসাগরে যাত্রা করার পরিকল্পনা রয়েছে জেলেদের। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটলেও তাদের যাত্রাপথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। এর প্রভাবে দেশের উপকূলে বিরূপ আবহাওয়া বিরাজ করছে। বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণকারী জেলেরা প্রথম দিনে যেতে পারছেন না। এছাড়া, জেলে মহাজনদের মধ্যে বন ও জলদস্যু আতঙ্কও রয়েছে। তাদের মাথায় রয়েছে লাখ লাখ টাকার ঋণের বোঝা। এই প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে নতুন করে ঋণ নিয়ে তাদের সাগরে ট্রলার পাঠাতে হচ্ছে।
এদিকে, মহাজন ও ট্রলার মালিকরা নিষেধাজ্ঞার সময় তাদের জাল ও ট্রলার মেরামত করে সমুদ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। জেলেরা অবসর কাটিয়ে মহাজনের আড়তে এসে উপস্থিত হয়েছেন। যদিও প্রথম দিনে সাগরে যেতে পারছেন না, তবুও যাওয়ার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন জেলে ও মহাজনরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উপকূলীয় বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য আড়ৎ, জেলে পাড়া ও মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাট এলাকা ঘুরে সাগরযাত্রার প্রস্তুতির চিত্র দেখা গেছে। শরণখোলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, জেলেরা শেষ মুহূর্তে এসে ব্যস্ত সময় পার করছেন জাল মেরামতে। ঘাটে নোঙর করা অর্ধশতাধিক ট্রলার রয়েছে। এসব ট্রলারের জেলেরা কেউ জাল তুলছেন, কেউ তুলছেন খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য মালামাল। অন্যদিকে বরফ কলগুলোতেও শ্রমিকদের মধ্যে ব্যস্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলেরা ট্রলারে বরফ তুলছেন।
এই সময় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিষেধাজ্ঞার সময় তারা জাল ও ট্রলার মেরামত কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এখন তারা আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। কারণ উত্তাল সাগরে ট্রলার নিয়ে বের হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ঘাটেই তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। মৎস্য আড়ৎদার মো. কবির হাওলাদার বলেন, এবছর সকল ব্যবসায়ীই কমবেশী লোকসানে রয়েছেন। আমার ৭-৮টি ট্রলারে কোটি টাকার ওপরে বিনিয়োগ (স্থানীয় ভাষায় দাদন বলা হয়) করা হয়েছে। গত মৌসুমে এসব ট্রলারে আহরিত ৩-৪ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এবার বিক্রি হয়েছে মাত্র এক কোটি টাকা। বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করে এই বিশাল অংকের টাকা বিনিয়োগ করে তারা এখন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
এই ব্যবসায়ীর আরো বক্তব্য, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও আবহাওয়া খারাপ থাকায় সাগরে কোনো ট্রলার যেতে পারছে না। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আগামী ২ ও ৩ নভেম্বর থেকে সাগরে যাওয়া শুরু করবে ট্রলাগুলো। তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে। বাগেরহাট জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মো: দুলাল ফরাজী ও শরণখোলা সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রথম দিনে সাগরে যাওয়া যাচ্ছে না। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে মাছ ধরা শুরু হবে। তারা আরো বলেন, লাখ লাখ টাকা লোকসানে পড়ে সব ব্যবসায়ী ঋণগ্রস্ত। তারওপর সাগরে দস্যুদের ভয়। তাই দস্যুদমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
কয়েকজন জেলে জানান, দীর্ঘ বছর ধরে সাগরে মাছ শিকারে নিয়োজিত থাকলেও সরকারের দেয়া খাদ্য সহায়তা থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছেন। এ ব্যাপারে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন। শরণখোলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতেই ইলিশ আহরণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। এরপর সাগরে জাল ফেললে আশানুরূপ মাছ ধরা পড়বে জেলেদের জালে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রথম দিন সাগরে যাওয়া নিয়ে কিছুটা সংকটে পড়েছেন জেলেরা। তিনি আরো বলেন, সাগরে নির্বিঘ্নে মাছ ধরার জন্য বন ও জলদস্যু নির্মূলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নিবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন