প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের নেতা মাসুদ আজহারের গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য পুরস্কারের অর্থ ৭০ লাখ পাকিস্তানি রুপি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। এই ঘোষণা পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) দ্বারা করা হয়েছে। ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবর প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য ফিন্যানশিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) পূর্ণাঙ্গ বৈঠকের কয়েক সপ্তাহ আগে এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় টেলিভিশন এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্থাটির বৈঠকগুলোতে অর্থ পাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং বিশেষ নজরদারিতে থাকা দেশগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকের আগে মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে পাকিস্তানের ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে বিশ্লেষকদের দ্বারা।
তবে মাসুদ আজহারকে নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান বরাবরই বিতর্কিত। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, আজহার পাকিস্তানে নেই এবং তিনি আফগানিস্তানে আত্মগোপন করে আছেন।
এছাড়াও, পাকিস্তানের ২০২৬ সালের আপডেটেড ‘রেড বুক’-এ মাসুদ আজহারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কারের মূল্য ২০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ লাখ পাকিস্তানি রুপি করা হয়েছে। অর্থাৎ, পুরস্কারের অঙ্ক এক ধাক্কায় সাড়ে তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তানের সরকারি নথিতে তিনি এখন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গিদের তালিকায় রয়েছেন।
ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, আজাহার পাকিস্তানেই সক্রিয় রয়েছেন। ফলে পাকিস্তানের মাটিতে ঘাঁটি থাকা জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে সত্যিই কোনো অভিযান চালানো হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ভারতের বুকে ঘটে যাওয়া একাধিক ভয়াবহ জঙ্গি হামলার মূল চক্রী হিসেবে মাসুদ আজহারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংসদ ভবনে হামলা, পাঠানকোট হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার মতো ঘটনাগুলোর সঙ্গে সংগঠনটির নাম যুক্ত হয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদও তাকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ভারত সরকারের সন্ত্রাসবাদীদের তালিকাতেও তার নাম রয়েছে।
১৯৯৯ সালে আই-৮১৪ বিমান অপহরণকাণ্ডের পর যাত্রীদের মুক্তির বিনিময়ে ভারত তিন জঙ্গিকে জেল থেকে মুক্তি দিয়েছিল, তাদের মধ্যে ছিলেন মাসুদ আজহার। মুক্তির পরেই তিনি জইশ-ই-মোহাম্মদ প্রতিষ্ঠা করেন।
অতএব, এফএটিএফ বৈঠকের ঠিক আগে পাকিস্তানের এই ‘পুরস্কার ঘোষণা’ কতটা বাস্তব পদক্ষেপ এবং কতটা আন্তর্জাতিক চাপ সামলানোর কৌশল— সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন