প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আধুনিক গবেষণাগার কিংবা বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ছাড়াই দীর্ঘ ২১ বছরের নিরলস গবেষণার মাধ্যমে সেন্টু কুমার হাজং নামের এক প্রান্তিক কৃষক নিজের এক চিলতে জমিতে একের পর এক ২৫ জাতের নতুন ধান উদ্ভাবন করে সকলকে অবাক করেছেন।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের চাটকিয়া গ্রামের এই কৃষক মাত্র ১২ কাঠা জমিকে উন্মুক্ত গবেষণাগার হিসেবে ব্যবহার করে এই সাফল্য অর্জন করেছেন। তবে বড় কোনো সরকারি স্বীকৃতি ও পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়ায় তার মধ্যে কিছুটা হতাশা রয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় জেলা প্রশাসন তার উদ্ভাবনী প্লট পরিদর্শন করে সার্বিক সহযোগিতা ও স্বীকৃতির উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস প্রদান করেছে।
কৃষক পরিবারে বেড়ে ওঠা সেন্টু এসএসসি পাসের পর আর্থিক সংকটের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। তবে কৃষিতে নতুন কিছু করার অদম্য আগ্রহ থেকে ২০০৫ সালে তিনি একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। শুরুতে মাত্র ২ কাঠা জমিতে গবেষণার কাজ শুরু করেন তিনি।
বর্তমানে তার ১২ কাঠা জমিতে প্রায় ৪৪০টি পরীক্ষামূলক প্লট রয়েছে। মূলত প্রাকৃতিক সংকরায়ণ বা ব্রিডিং পদ্ধতিতে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে। একটি নতুন জাত পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে ও মাঠপর্যায়ে যাচাই করতে প্রায় সাত বছর সময় লাগে। দীর্ঘ এই পরিশ্রমের ফলে একে একে উদ্ভাবন করেছেন সেন্টু-১ থেকে সেন্টু-২৫ নামের নতুন ধানের জাত। এসব ধানের ফলন সাধারণ জাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
সেন্টুর উদ্ভাবিত ধানের ফলন ভালো হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে বীজের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নালিতাবাড়ীর কৃষক সুমন্ত বর্মণ জানান, আগে সাধারণ বীজ দিয়ে আবাদ করে যে ফলন পাওয়া যেত, সেন্টুর উদ্ভাবিত জাত চাষ করে তার চেয়ে অনেক বেশি ধান মিলছে।
ঝিনাইগাতীর কৃষক ওসমান গণি বলেন, শুধু শেরপুরেই নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও কৃষকেরা তার কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করছেন। সেন্টু হাজংয়ের প্রথম সফল জাত ‘সেন্টু শাইল’ এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী বগি, হালই, গোলাপী, মালঞ্চি, বিরই, চাপাল ও খাসিয়াবিন্নির মতো দেশি জাত সংরক্ষণেও তিনি কাজ করছেন।
সম্প্রতি সেন্টু হাজংয়ের এই গবেষণার মাঠ পরিদর্শন করেছেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। তিনি সেন্টু হাজংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘সেন্টু কুমার হাজং আমাদের শেরপুরের গর্ব। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা ছাড়া দেশের কৃষকদের স্বার্থে তিনি যা করেছেন তা এক অনন্য নজির। সরকারি স্বীকৃতি ও পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠাব।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন