প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারত পাকিস্তান ও চীনকে মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যে জার্মানির কাছ থেকে ৬টি ভয়ংকর সাবমেরিন কিনতে যাচ্ছে। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে কার্যকর থাকার জন্য এই সাবমেরিনগুলো কেনার জন্য প্রাথমিক বাজেট ৭০ হাজার কোটি রুপি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।\n\nএই তথ্যটি রোববার (১৬ আগস্ট) ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রের মাধ্যমে এনডিটিভি প্রচার করেছে।\n\nভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবমেরিন ক্রয় সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এই কমিটির বৈঠক আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে পাস হওয়ার কথা রয়েছে 'প্রোজেক্ট ৭৫ ইন্ডিয়া' বা 'পি ৭৫ ইন্ডিয়া' নামে পরিচিত এই প্রস্তাবনাটি।\n\nযদি 'পি ৭৫ ইন্ডিয়া' প্রস্তাব পাস হয়, তাহলে জার্মানির শীর্ষ সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি প্রস্তুতকারী সংস্থা থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমের (টিকেএমএস) সঙ্গে যৌথভাবে সাবমেরিন নির্মাণ করবে মুম্বাইভিত্তিক মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড। সূত্র জানাচ্ছে, 'মেইক ইন ইন্ডিয়া' প্রকল্পের আওতায় এই সাবমেরিনগুলো কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নির্মাণ করা হবে।\n\nবিশ্বে দুটি ধরনের সামরিক সাবমেরিন বিদ্যমান— পারমাণবিক সাবমেরিন ও কনভেনশনাল সাবমেরিন। পারমাণবিক সাবমেরিন পরমাণু শক্তি ব্যবহার করে চলে এবং অসংখ্য দিন পানির নিচে থাকতে পারে। অন্যদিকে কনভেনশনাল সাবমেরিন পানির নিচে চলার জন্য ব্যাটারি চালিত বৈদ্যুতিক মোটর ও ডিজেল ইঞ্জিন ব্যবহার করে।\n\nনতুন ৬টি সাবমেরিন টাইপ-২১৪ শ্রেণির এবং এগুলোর মধ্যে 'এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন সিস্টেম' বা এআইপিএস প্রযুক্তি রয়েছে, যার কারণে এগুলো অ্যাডভান্সড কনভেনশনাল সাবমেরিন নামে পরিচিত। টাইপ-২০৪ শ্রেণির সাবমেরিনগুলো সাধারণ সাবমেরিনের তুলনায় বেশি সময় পানির নিচে থাকতে সক্ষম।\n\nটিকেএমএস ও মাজাগাঁও ডক বিল্ডার্স লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত সাবমেরিনগুলোর আকার হবে ২১৯ দশমিক ০৫ ফুট (৬৫ মিটার), প্রস্থ ২১ দশমিক ২৩ ফুট এবং উচ্চতা ২০ দশমিক ২২ ফুট।\n\nএই সাবমেরিনগুলো নির্মাণ করতে ব্যবহৃত হবে এইচওয়াই-১০০ ফেরোম্যাগনেটিক ইস্পাত, যা চৌম্বকীয় স্বাক্ষর কম রাখার জন্য পরিচিত। ফলে শত্রু নৌবাহিনীর নজরদারি এড়াতে সক্ষম হবে।\n\nঅস্ত্রসজ্জায় ৬টি ৫৩৩ এমএম টর্পেডো টিউব এবং এসএম-২৯ এক্সোসেট জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, পাশাপাশি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের সাবমেরিনে ব্যবহারের উপযোগী সংস্করণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।\n\nভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানাচ্ছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তান ও চীনের মোকাবিলা করার জন্য ভারতীয় নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।\n\n২০১৮ সালে ভারতের নৌবাহিনী কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে অ্যাডভান্সড প্রযুক্তির সাবমেরিনের জন্য আবেদন জানিয়েছিল। সেই সূত্র ধরে ৬টি সাবমেরিন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়, এবং প্রাথমিক বাজেট ছিল ৪৩ হাজার কোটি রুপি।\n\nএর আগে, ভারতীয় নৌবাহিনী ৪টি সাবমেরিন কেনার জন্য জার্মানির সংস্থা হাউন্ডসওয়ার্ক-ডয়শে ওয়েরফ্টের সঙ্গে চুক্তি করেছিল। প্রায় দেড় দশক আগে ফরাসি কোম্পানি ডিসিএনএস-এর সঙ্গে যৌথভাবে ছয়টি কলভরি সিরিজের স্করপেন সাবমেরিন নির্মাণ শুরু করেছিল ভারত। প্রথম সাবমেরিনটি ২০১৫ সালে নৌবাহিনীর হাতে এসেছিল এবং ২০২০ সালে শেষ সাবমেরিন 'কমিশন' পেয়েছিল। এরপর পাঁচ বছরে নতুন কোনো সাবমেরিন ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছে আসেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন