প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আরও ১ কোটি ৪০ লাখ (১৪ মিলিয়ন) ইউরো অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই অতিরিক্ত অর্থায়ন জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব নবায়নের মাধ্যমে জরুরি মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে করছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ইইউ এবং ইউএনএইচসিআরের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত হয়েছে, এই অর্থায়নের ফলে কক্সবাজারের ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশি আশ্রয়দাতা জনগণের সদস্য উপকৃত হবেন। এর আওতায় মূলত দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি হিসেবে লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার মন্তব্য করেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের পাশে থাকতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তাই এখন শুধু জরুরি সহায়তা নয়; বরং শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়ের সুযোগ তৈরির দিকেও নজর দিতে হবে।’ এই উদ্যোগ রোহিঙ্গাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং ভবিষ্যতে মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘গত নয় বছর ধরে চরম দুর্ভোগের মধ্যে থাকা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সহায়তা তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সেবা, মৌলিক চাহিদা পূরণ ও একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে সাহায্য করবে।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সতর্কতা প্রদান করা হয়, ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবসের ঠিক আগে এই সহায়তার ঘোষণা দান করা হলো। ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পের নিরাপত্তা ঝুঁকি, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা এবং মানব পাচার থেকে রক্ষা করতে কমিউনিটিভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। এছাড়াও এলপিজি ব্যবহারের ফলে নারীদের জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে, এবং পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস পাবে।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি)-এর আওতায় চলতি বছরে ৭১ কোটি মার্কিন ডলারের প্রয়োজন উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদার সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন