ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনে নতুন উদ্যোগ, ২৫ অক্টোবরের মধ্যে ধারণা জমা দিতে আহ্বান


টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনে নতুন উদ্যোগ, ২৫ অক্টোবরের মধ্যে ধারণা জমা দিতে আহ্বান

সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ ‘স্ফুরণ-টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের সন্ধানে’ শীর্ষক একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে উদ্ভাবনী ধারণা খুঁজতে সহায়তা করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের পেশাজীবীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগ্রহী সকলকে আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে তাদের উদ্ভাবনী ধারণা জমা দিতে হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) সহযোগিতায়। জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জিআইজেড কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে রিসোর্টের আগুনে মৃত্যু বেড়ে ৬ জনে দাঁড়াল

২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ১৫ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাস্তবসম্মত ও কার্যকর ধারণা আহ্বান করা হয়েছে।

প্রতিযোগিতায় দুটি বিভাগ রয়েছে। গ্রুপ ‘এ’-তে দেশের যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো বিভাগের দুই শিক্ষার্থী মিলে দল গঠন করে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। অন্যদিকে, গ্রুপ ‘বি’-তে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পেশাজীবীরা এককভাবে অংশ নিতে পারবেন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের আওতায় সৌরবিদ্যুৎ, স্মার্ট সৌর সেচ, অফ-গ্রিড ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ গ্রিডের আধুনিকায়ন, জ্বালানি সংরক্ষণ, বায়ুবিদ্যুৎ, দেশীয় সৌর প্যানেল ও ইনভার্টার উৎপাদন এবং কৃষিজমির সাশ্রয়ী ব্যবহারে এগ্রি-পিভি ও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে ধারণা জমা দেওয়া যাবে।

অন্য বিভাগে জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন রান্নার ব্যবস্থা, জ্বালানি দক্ষতা পর্যবেক্ষণের ডিজিটাল সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক যান ও চার্জিং ব্যবস্থা, ভবনের জ্বালানি দক্ষতা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী শীতলীকরণ, চাহিদা ব্যবস্থাপনা, পুরোনো স্থাপনা ও ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং আচরণগত পরিবর্তন ও নীতিগত প্রস্তাবনা নিয়ে ধারণা জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইলিশ আহরণে জেলেদের অতিমাত্রায় আগ্রহ

অংশগ্রহণকারীদের তাদের ধারণার ব্যাখ্যা দিয়ে সর্বোচ্চ এক হাজার শব্দের একটি কনসেপ্ট নোট এবং ধারণার বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরে তিন মিনিটের একটি ভিডিও জমা দিতে হবে।

আগ্রহী অংশগ্রহণকারীরা https://seideacontest2026.sreda.gov.bd/ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন ও তাদের উদ্ভাবনী ধারণা জমা দিতে পারবেন।

স্রেডার চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ উল্লেখ করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং এ লক্ষ্য অর্জনে নতুন ও বাস্তবসম্মত ধারণা পেতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ভাবনী ধারণা তৈরি করছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করছে। তরুণদের এসব গবেষণালব্ধ ধারণা কাজে লাগিয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণা ও সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরতে চায় স্রেডা। এসব ধারণা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে।

আরও পড়ুন: পায়রা নদীতে বিষাক্ত বর্জ্য, ইলিশ ও জেলেদের জীবন হুমকিতে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের ‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে রসিকতা, মানবাধিকার কর্মীদের সমালোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৩ এম


ট্রাম্পের ‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে রসিকতা, মানবাধিকার কর্মীদের সমালোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মুসলিম বিশ্বে বহুল প্রচলিত ‘মোহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে রসিকতা করেছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় জর্জিয়ার ডালটনে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে ইরানি প্রেসিডেন্ট পদকে কটাক্ষ করতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনারা জানেন, মধ্যপ্রাচ্যে কারো নাম নিয়ে যদি সন্দেহ থাকে, তাহলে শুধু ‘মোহাম্মদ’ বলে ডাকুন। এতে ৬৫ শতাংশ সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ‘হ্যালো, মোহাম্মদ!’ আমি বছরের পর বছর ধরে এটা করে আসছি, কখনোই ভুল হয়নি।"

মোহাম্মদ মুসলিম পুরুষদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় নাম। ইসলামের প্রবর্তক নবী মুহাম্মদের নাম অনুসারে মুসলিমরা তাদের ছেলেদের এই নাম দেন।

আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য রিপাবলিকান রাজনৈতিক প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারণায় নেমেছেন ট্রাম্প। তিনি জর্জিয়ার ডালটন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের একটি হ্যাঙ্গারে আয়োজিত জনসভায় ইরান নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, "ইরানই একমাত্র দেশ যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চায় না।" এরপর তিনি মোহাম্মদ নামের বেশ কয়েকজনকে প্রেসিডেন্ট হতে চান কিনা, তা জিজ্ঞেস করার ভান করেন। ২০২৪ সাল থেকে মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ট্রাম্পের এই রসিকতায় জর্জিয়ায় সাড়া ছিল খুবই সামান্য।

মানবাধিকার কর্মী এবং মুসলিম প্রতিনিধিত্বকারী গোষ্ঠীগুলো ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের কথায় মুসলিম, অভিবাসী এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের হেয় প্রতিপন্ন ও উপহাস করা হয়েছে।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণার মৌসুমে ট্রাম্প এ ধরনের বাগাড়ম্বর বক্তব্য আরও বাড়িয়েছেন। বিশেষ করে সোমালি ও মুসলিম আমেরিকানদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে মুসলিম ডেমোক্র্যাটিক মার্কিন সিনেট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ এবং মিনেসোটার ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি ইলহান ওমর, যিনি সোমালি শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, তাদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পর্নোগ্রাফির আসক্তির ক্ষতি ও মুক্তির উপায় নিয়ে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ এম


পর্নোগ্রাফির আসক্তির ক্ষতি ও মুক্তির উপায় নিয়ে আলোচনা

পর্নোগ্রাফি দেখা অনেকের কাছে নিছক বিনোদন বা ব্যক্তিগত অভ্যাস হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু যখন এই অভ্যাস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন এটি কাজ, পড়াশোনা, মানসিক সুস্থতা ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদি কেউ বারবার কমানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন, মানসিক চাপ সামলাতে পর্নের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন কিংবা দৈনন্দিন দায়িত্ব অবহেলা করেন, তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তবে নিয়মিত পর্ন দেখার ফলে কেউ আসক্ত হয়ে পড়েন বা এর ফলে মস্তিষ্ক ও যৌন সক্ষমতার ক্ষতি হয়— এমন দাবির পক্ষে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্ন ব্যবহারের পরিমাণের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, এটি ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবন ও মানসিক স্বাস্থ্যে কী প্রভাব ফেলছে।

ব্রিটিশ বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘বিবিসি সায়েন্স ফোকাস’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে পর্নোগ্রাফি ব্যবহারের প্রভাব, আসক্তি নিয়ে বিতর্ক এবং এ অভ্যাস নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন উপায় তুলে ধরা হয়েছে।

কখন পর্ন দেখা সমস্যা হয়ে ওঠে

পর্নোগ্রাফি ব্যবহারের ফলে দৈনন্দিন কাজের ব্যাঘাত, বারবার চেষ্টা করেও অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা কিংবা উদ্বেগ ও একাকিত্ব সামলানোর প্রধান উপায় হিসেবে পর্নের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া সমস্যাজনক ব্যবহারের লক্ষণ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নিউ মেক্সিকোর মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক জশুয়া গ্রাবসের গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা পর্ন দেখাকে নৈতিকভাবে ভুল মনে করেন, তাদের মধ্যে নিজেদের এ অভ্যাসে আসক্ত মনে করার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। পর্ন ব্যবহারের পরিমাণ কম হলেও এমন অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

গবেষকেরা এ অবস্থাকে ব্যক্তির নৈতিক বিশ্বাস ও আচরণের মধ্যে অসামঞ্জস্য হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এ ধরনের দ্বন্দ্ব থেকে অপরাধবোধ ও মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, পর্ন ব্যবহারের কারণে বাস্তব জীবনে সমস্যা তৈরি হয় না। বরং অভ্যাসটির কারণে দৈনন্দিন কাজে ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

কী কী ক্ষতি হতে পারে

দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত: পর্ন দেখার জন্য অতিরিক্ত সময় ব্যয় হলে কাজ, পড়াশোনা ও অন্যান্য দায়িত্ব অবহেলিত হতে পারে। বারবার দেখার তাগিদ তৈরি হলে সময় ব্যবস্থাপনাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব: কেউ কেউ উদ্বেগ, একাকিত্ব কিংবা মানসিক চাপ থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে পর্ন দেখেন। কিন্তু এতে সমস্যার মূল কারণ দূর হয় না। বরং একইভাবে বারবার মানসিক চাপ সামলানোর চেষ্টা করলে অভ্যাসটির ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে।

সম্পর্কে টানাপোড়েন: সঙ্গীর কাছে পর্ন দেখার বিষয়টি গোপন রাখা, এ নিয়ে মতবিরোধ কিংবা যৌন চাহিদা ও প্রত্যাশার অমিল সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে পারে। তবে পর্ন দেখলেই যৌন সক্ষমতা কমে যায় বা সম্পর্ক নষ্ট হয়— এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে গবেষণায় যথেষ্ট প্রমাণ নেই।

অপরাধবোধ ও আত্মবিশ্বাসের সংকট: নিজের আচরণকে ভুল মনে করে কেউ কেউ লজ্জা, অপরাধবোধ ও আত্মঘৃণায় ভুগতে পারেন। এতে মানসিক অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মদোষারোপের পরিবর্তে অভ্যাসটির কারণ ও প্রভাব বোঝার চেষ্টা করা বেশি কার্যকর।

পর্নো-আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়

অভ্যাসের কারণ শনাক্ত করা: কোন পরিস্থিতিতে পর্ন দেখার প্রবণতা বাড়ে, তা খেয়াল করা জরুরি। একাকিত্ব, একঘেয়েমি, উদ্বেগ কিংবা মানসিক চাপের সময় এ প্রবণতা বাড়ে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করলে অভ্যাস পরিবর্তনের পথ খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ: পর্ন দেখার পেছনে কতটা সময় ব্যয় হচ্ছে এবং এর কারণে কোন কাজগুলো ব্যাহত হচ্ছে, তা হিসাব করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে ব্যবহারের সময় কমিয়ে আনা এবং অবসর সময়ে বিকল্প কাজে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করা সহায়ক হতে পারে।

মানসিক চাপ মোকাবিলা: উদ্বেগ বা মন খারাপের সময় পর্নের ওপর নির্ভর না করে সমস্যার মূল কারণ সমাধানের চেষ্টা করা প্রয়োজন। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং স্বাস্থ্যকর বিনোদনে যুক্ত থাকা মানসিক চাপ সামলাতে সাহায্য করতে পারে।

বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ: একবারেই অভ্যাসটি পুরোপুরি বন্ধ করার কঠোর সিদ্ধান্ত সবার জন্য কার্যকর নাও হতে পারে। নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী লক্ষ্য নির্ধারণ এবং তা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। কোনো দিন লক্ষ্য পূরণ করতে না পারলে নিজেকে ব্যর্থ ভাবার পরিবর্তে কেন এমন হয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া: বারবার চেষ্টা করেও অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হলে কিংবা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক কষ্ট তৈরি হলে প্রশিক্ষিত মনোবিজ্ঞানী বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা

অল্প বয়সে পর্নোগ্রাফির সংস্পর্শে আসার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। পর্নে উপস্থাপিত যৌনতা বাস্তব সম্পর্কের নির্ভরযোগ্য প্রতিচ্ছবি নয়। শিশু-কিশোরেরা বিষয়টি বুঝতে না পারলে যৌনতা ও সম্পর্ক নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। এ কারণে বয়সোপযোগী যৌনশিক্ষা, পারস্পরিক সম্মতি, শ্রদ্ধা এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্নোগ্রাফি ব্যবহার নিয়ে অযথা ভয় বা আত্মদোষারোপ না করে এর বাস্তব প্রভাব মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। অভ্যাসটি যদি ব্যক্তির কাজ, সম্পর্ক ও মানসিক সুস্থতায় বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা এবং প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা নেওয়াই হতে পারে কার্যকর পদক্ষেপ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেহা বোরা মুক্ত, অভিজিৎ দিপকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ এম


নেহা বোরা মুক্ত, অভিজিৎ দিপকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ

ভারতের দিল্লিতে আটক অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরাকে পুলিশ মুক্তি দিয়েছে। তবে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ তাকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পরিকল্পনা করেছে। এ তথ্য বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের মতে, আইনের ৬৫ ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ ও ১৭০ ধারায় অভিজিৎ দিপকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সিজেপি অভিযোগ করেছে যে, দিপককে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তার অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ কোনো তথ্য প্রদান করছে না।

দিপকের অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব পালনকারী অজিঙ্কা শিন্ডে এএনআইকে জানিয়েছেন, আটকের আট ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তারা দিপকের অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানতে পারেননি। তিনি আরো অভিযোগ করেন, তাকে আইনজীবী কিংবা দলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। আটক হওয়ার কারণ সম্পর্কেও কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন শিন্ডে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নয়াদিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে নির্ধারিত কর্মসূচির আগে অভিজিৎ দিপককে তার বাসা থেকে আটক করা হয়। একই দিন যন্তর মন্তরের কাছ থেকে এআইএসএ নেতা নেহা বোরাকেও আটক করা হয়। উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবরও নেহা বোরাকে আটক করা হয়েছিল, তবে পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এদিকে, সিজেপির আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছে। তারা বর্তমানে পাঁচ দিনের কারা হেফাজতে রয়েছেন।

নয়াদিল্লিতে ফিরে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ মার্চ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিলেন অভিজিৎ দিপক। শুক্রবার বিকেলে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু কর্মসূচির কয়েক ঘণ্টা আগে দিল্লি পুলিশ সিজেপি নেতাকে নোটিশ পাঠিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন না করার নির্দেশ দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরে করোলবাগে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (শারদ পাওয়ার) মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডের বাসা থেকে দিপককে আটক করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নবাবি আমলের ঐতিহাসিক দোলেশ্বর জামে মসজিদে দর্শনার্থীদের ভিড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৫ এম


নবাবি আমলের ঐতিহাসিক দোলেশ্বর জামে মসজিদে দর্শনার্থীদের ভিড়

ঢাকার কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর গ্রামে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অনন্য স্মারক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ। প্রায় দেড় শ বছর ধরে কালের নানা পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে থাকা এই মসজিদ নবাবি আমলের স্থাপত্যশৈলীর একটি অনন্য নিদর্শন। এটি এখন দেশ-বিদেশের মানুষের জন্য আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। সময়ের পরিক্রমায় একাধিকবার সংস্কার ও সম্প্রসারণ হলেও, এর মূল নকশা ও ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলী যত্নের সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও নান্দনিক স্থাপত্যের স্বীকৃতি হিসেবে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ইউনেসকোর এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যাওয়ার্ডস ফর কালচারাল হেরিটেজ কনজারভেশনে ‘অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট’ অর্জন করে মসজিদটি। একই মাসের ১৬ ডিসেম্বর সৌদি আরবের আবদুল লতিফ ফাওজান আন্তর্জাতিক মসজিদ স্থাপত্যশিল্পবিষয়ক অ্যাওয়ার্ডেও ভূষিত হয় এটি। এসব আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পর, দোলেশ্বর মসজিদ দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছে আরো পরিচিত হয়ে ওঠে।

স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলা ১২৭৫ সনে, অর্থাৎ ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দ ও ১২৮৫ হিজরিতে, দারোগা আমিনউদ্দিন আহমদ নিজ উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু করেন। মসজিদ নির্মাণের প্রথম উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর নাম জড়িয়ে থাকায় একসময় এটি ‘দারোগা মসজিদ’ নামেও পরিচিত ছিল। দারোগা আমিনউদ্দিন আহমদের ছেলে মইজউদ্দিন আহমদ ছিলেন মসজিদের প্রথম মুতাওয়াল্লি। পরবর্তী সময়ে মইজউদ্দিন আহমদ, তমিজউদ্দিন আহমদ, করিমউদ্দিন আহমদ, খিদির বক্স মিয়া ও আবদুর গফুর আহমদ মসজিদের জন্য জমি ওয়াকফ করেন।

পুরনো রূপ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ

ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটিকে আধুনিকভাবে পরিবর্তন না করে, তার পুরনো রূপ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয় হামিদুর রহমানের পরিবার। তাদের উদ্যোগে স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদের তত্ত্বাবধানে, মসজিদটির মূল অবকাঠামো ও স্থাপত্যশৈলী অক্ষুণ্ন রেখে পুনঃসংস্কারের কাজ শুরু হয়। ২০১৮ সালে সংস্কারকাজ শেষ হয়। পুরনো মসজিদের পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে নতুন একটি মসজিদ। ফলে ঐতিহাসিক পুরনো স্থাপনাটি এখন গ্রন্থাগার ও মক্তব হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এতে একদিকে মসজিদের ঐতিহাসিক কাঠামো সংরক্ষিত হয়েছে, অন্যদিকে নতুন মসজিদে নিয়মিত ইবাদতের ব্যবস্থা অব্যাহত আছে।

লাল ইটের নান্দনিক স্থাপত্য

দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদের অন্যতম আকর্ষণ এর লাল ইটের নির্মাণশৈলী। ঐতিহাসিক বাংলার মসজিদগুলোর প্রাচীন স্থাপত্যের সঙ্গে এ কাঠামোর বেশ মিল রয়েছে। মসজিদের এক গম্বুজবিশিষ্ট নকশা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। উঁচু ও গোলাকার গম্বুজের চারপাশে রয়েছে ছোট ছোট মিনারসদৃশ অলংকরণ। মসজিদের প্রবেশপথে রয়েছে খিলানযুক্ত দরজা। দরজার ওপরে ও চারপাশে সূক্ষ্ম কারুকার্য এবং নকশা খোদাই করা হয়েছে। সামনের দেয়ালেও রয়েছে নান্দনিক অলংকরণ। ভেতরের অংশ উঁচু ও প্রশস্ত। আলো-বাতাস চলাচলের জন্য রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা।

মসজিদের চারপাশের সবুজ পরিবেশও এর সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। ছোট ছোট গাছ, সবুজ ঘাস আর পাশের জলাধারে মসজিদের প্রতিচ্ছবি—সব মিলিয়ে জায়গাটি তৈরি করেছে মনোরম এক দৃশ্য। প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী অক্ষুণ্ন রেখে সংস্কার করায় স্থাপনাটি পেয়েছে নতুন প্রাণ, কিন্তু হারায়নি তার ঐতিহ্যের ছাপ। মসজিদটিতে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন স্থানীয় মুসল্লিরা। জুমার নামাজেও অংশ নেন শত শত মুসল্লি। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ছুটে আসেন এর স্থাপত্য ও ঐতিহ্য দেখতে।

দেড় শতাব্দীর বেশি সময় ধরে নানা পরিবর্তনের মধ্যেও দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদের মূল স্থাপত্যশৈলী ধরে রাখা হয়েছে। পুরনোকে ভেঙে নতুন করে নির্মাণের পরিবর্তে ঐতিহাসিক কাঠামো সংরক্ষণ করে তার পাশে নতুন মসজিদ নির্মাণ—এই উদ্যোগ স্থাপত্য ঐতিহ্য রক্ষার একটি প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত।

কালের স্রোতে বহু স্থাপনা হারিয়ে গেলেও, দোলেশ্বর মসজিদ যেন আজও নীরবে বলে যাচ্ছে কয়েক প্রজন্মের ইতিহাস। এর ইট-পাথরের গায়ে মিশে আছে অতীতের স্মৃতি, স্থাপত্যের সৌন্দর্য এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের দীর্ঘ পথচলা। লাল ইটের দেয়াল, উঁচু গম্বুজ, সূক্ষ্ম কারুকাজ, সবুজ পরিবেশ আর জলাধারে প্রতিফলিত মসজিদের অবয়ব—সব মিলিয়ে দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ আজ বাংলাদেশের স্থাপত্য-ঐতিহ্যের জীবন্ত স্মারক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%