প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিরিয়া, সউদী আরবের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে ইয়েমেনের হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দামেস্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেসামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামোর ওপর হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে।
হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়ে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলা আন্তর্জাতিক আইন ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এসব কর্মকাণ্ড সউদী আরবের নিরাপত্তা এবং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করছে।
মঙ্গলবার ও বুধবার হুথিরা সউদী আরবের আবহা ও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। সউদী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলায় তিনজন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন। আবহা বিমানবন্দরে দুই নারী এবং রিয়াদের বিমানবন্দরে এক সুদানি নাগরিক নিহত হয়েছেন।
হুথিরা এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটির দাবি, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সউদীর বিভিন্ন বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। সউদী নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদে হামলায় ব্যবহৃত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণস্থল ধ্বংস করা হয়েছে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সউদী আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং দেশটিতে বসবাসকারী নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়াদ যে বৈধ পদক্ষেপ নেবে, দামেস্ক তার প্রতি পূর্ণ সংহতি জানাবে।
সিরিয়ার এই অবস্থান এমন এক সময়ে প্রকাশ পেয়েছে, যখন দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা চলতি সপ্তাহে রিয়াদ সফর করে সউদী যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, বৈঠকে সিরিয়ার পুনর্গঠন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পুনর্নির্মাণ এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি, নির্মাণ, শিল্প, কৃষি ও বাণিজ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এই সফরে আহমেদ আল-শারা সউদী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে সিরিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক সমন্বয় জোরদারের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। একই সময়ে ইয়েমেনে সংঘাতের বিস্তার নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন