১২:৪৮ পি.এম
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জমি থেকে জলপাই লুট করার অনুমতি প্রদান করে ধর্মীয় ফতোয়া জারি করেছেন প্রভাবশালী ইসরাইলি রাবি ডভ লিওর। এই ইহুদি ধর্মগুরু দাবি করেছেন যে, জলপাই সংগ্রহের মাধ্যমে ওই ভূমির ওপর ইহুদিদের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার ইসরাইলি টেলিভিশন চ্যানেল ১৩-এ প্রকাশিত এই ধর্মীয় ফতোয়া অনুযায়ী, লিওর দাবি করেন যে, ফিলিস্তিনিরা তাদের জমির বৈধ মালিক নন। তার যুক্তি হলো, তারা ইসরাইলি জনগণ কিংবা কোনো ইহুদির কাছ থেকে জমিগুলো কেনেননি; সুতরাং এসব জমি আসলে ‘চুরি করা সম্পত্তি’ হিসেবে বিবেচিত।
ইহুদি ধর্মীয় আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে লিওর বলেন, চুরির মাধ্যমে জমির মালিকানা হস্তান্তরিত হতে পারে না। তাই, ফিলিস্তিনিদের জমি আসলে ‘ইসরায়েলি জনগণ’-এর সম্পত্তি। তিনি আরও যুক্তি দেন যে, ফিলিস্তিনিরা নিজেদের জমিতে জলপাইগাছ রোপণ করলেও তাতে জমি কিংবা উৎপাদিত ফসলের ওপর তাদের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় না।
আরও পড়ুন: হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ইয়েমেন সরকারের নতুন কৌশল কতটা কার্যকর হবে?
লিওর আরো দাবি করেন যে, বছরের পর বছর জলপাইয়ের ফল ভোগ করার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিরা গাছ রোপণের জন্য যথেষ্ট ক্ষতিপূরণ পেয়ে গেছেন। ফলে, জমি ও ফসল উভয়ই তার কথিত ‘প্রকৃত মালিকদের’ কাছে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।
এই ফতোয়া শুধু অবৈধ ইসরাইলি বসতির আশপাশের জমিতে সীমাবদ্ধ নয়। বসতি থেকে দূরবর্তী ফিলিস্তিনি এলাকাগুলোর জলপাইয়ের ফসল সংগ্রহেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এমন একটি সময় এই ধর্মীয় নির্দেশ দেওয়া হলো, যখন অধিকৃত পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ফিলিস্তিনি কৃষক ও তাদের সম্পত্তির ওপর ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বৃদ্ধি পাচ্ছে। হামলার মধ্যে রয়েছে কৃষকদের ওপর শারীরিক আক্রমণ, জমিতে প্রবেশে বাধা, জলপাইগাছ ধ্বংস এবং ফসল লুট।
প্রতি বছর অক্টোবরে জলপাই সংগ্রহের মৌসুম শুরু হয়। এ সময় ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর হামলার ঘটনা নিয়মিতভাবে ঘটে। চলতি মাসে ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি তাদের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও অন্যান্য সম্পত্তিতে হামলার ঘটনা বেড়েছে।
আরও পড়ুন: দিল্লির ছাত্র বিক্ষোভে দমনপীড়নের অভিযোগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ৬ আইনপ্রণেতার চিঠি
ফিলিস্তিনি, ইসরাইলি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করছে যে, এসব সহিংসতা বন্ধে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। একই সঙ্গে হামলাকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার অভিযোগও রয়েছে। ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর, কৃষিজমি, যানবাহন ও অন্যান্য সম্পত্তি নিয়মিতভাবে এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গড়ে তোলা ইসরাইলি বসতিগুলো অবৈধ। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিরা তাদের ভূমির ওপর নিজেদের অধিকার বজায় রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন এবং জমি দখলের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করছেন।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
আরএ
আরও পড়ুন: সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় ‘যেকোনো পদক্ষেপ’ নিতে প্রস্তুত মিসর: সিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন