প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, ‘জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার পূর্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে যে একটি বিকল্প খসড়া বাজেটে অর্থনীতিকে দাঁড় করানোর প্রস্তাবনা আমরা দিয়েছিলাম, সরকারের তরফ থেকে সেগুলোকে বাদ দিয়ে বিদেশের ঋণের ওপর নির্ভরশীল উচ্চাভিলাষী লুটপাটের বাজেট পেশ করা হয়েছে।’
তিনি আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে ভোলা শহরের ওয়েস্টার্নপাড়ায় জামায়াতে ইসলামীর জেলা কার্যালয়ে পালনকৃত উপজেলা ‘কর্মপরিষদ সদস্যদের শিক্ষা শিবির’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও উল্লেখ করেন, ‘প্রশাসন, কর কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং জুডিশিয়ারি কমিশন থেকে যদি দুর্নীতি না কমে, তাহলে যে বাজেট হবে, সেই বাজেটের টাকা দলীয় কর্মীরা ভাগ করে খাবে। দুর্নীতির কোনো হিসাব হবে না, এই কারণে আমরা বলেছি, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে এই বাজেট জনগণের আশা পূরণ করবে না। এটি দলের কর্মীদের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে লুটপাটের বাজেট। সরকারকে বলব, আমরা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে যে খসড়া বাজেট প্রস্তাব করেছি, সেই আলোকে বাজেট সংশোধন করে আগামী ৩০ জুন জনবান্ধব বাজেট পাস করতে হবে।’
জুলাই সনদ বিষয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, “গত ১২ ফেব্রুয়ারির একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে ৮৪টি ঐক্যমতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবে সব দল একমত হয়ে গণভোটে ৪টি প্রশ্নের সমন্বয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ৭০ ভাগ জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে মতামত দিয়েছে। এমনকি বিএনপিও সেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ছিল।
কিন্তু নির্বাচনের পরে দুঃখজনকভাবে দেখা গেল, বিএনপি সরকারি সংসদ গঠন হওয়ার পর পরই ১৮০ ডিগ্রি ইউটার্ন নিয়ে বললেন—গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ বেআইনি এবং এসব বিষয় তাদের কাছে মাফিক নয়। এতে বোঝা গেল, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের কোনো ইচ্ছা তাদের ছিল না, ক্ষমতায় বসে আবার ফ্যাসিবাদের মতো শাসনের ইচ্ছা তারা লুকিয়ে রেখেছিলেন। এজন্য তারা গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছে। ফলে রাজনীতি সেই সংকটেই রয়ে গেছে।”
কর্মশালায় ভোলা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাস্টার মুহাম্মদ জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে বরিশাল অঞ্চলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াজ্জম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় মজলিশের শুরা সদস্য এ কে এম ফখরুদ্দিন খান রাজীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন