প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচিত প্রবাহে প্রথমবার মুখ খুললেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়া সফর শেষে দেশে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বললেন, 'তিনি (ডিসি) আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। সবাইকে নিয়ে বসে অচিরেই স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কাজ করব।'
অপরদিকে, বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথাবার্তা বলেন। তিনি চার দিনের সরকারি সফরে সিলেটে পৌঁছেছেন। বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক মাজারের বিষয় এবং জেলা প্রশাসক প্রত্যাহার নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিলেন। এ সময় প্রশাসন ও বিমানবন্দরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আরো বলেন, 'উনি (সারওয়ার আলম) আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। আমরা সেদিকেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব।' তিনি উল্লেখ করেন, 'এ ধরনের (মাজারের দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনা) স্বচ্ছতার পদক্ষেপে আমাদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব এবং আমরা সবাইকে নিয়ে মাজারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করব। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।'
এ সময় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, 'আমি দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে আসার পর গতকাল সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমরা সবাই একমত। মাজার নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব। খুব তাড়াতাড়ি মাজারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।'
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের বদলি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, 'বদলির বিষয়টা রুটিন ওয়ার্ক। এটা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাজ। এটা এই ঘটনার (মাজার ইস্যু) সঙ্গে সংযুক্ত নয়। এটি আগে-পরেও হতে পারত।'
সম্প্রতি কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের ৫ প্রবাসী নিহতের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, 'নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। নিহতদের পরিবারকেও সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।'
এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, 'ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও বিশ্রামাগারসহ নানা বিষয়ে উদ্যোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।'
এর আগে গত বৃহস্পতিবার, হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ৩টি ডেগে সিলগালা করে জেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন চারটি দানবাক্স মাজারে বসানো হয়। মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনার কথা বলে পিতলের তিনটি ডেগ সিলগালা করেছে প্রশাসন।
এ নিয়ে মাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা মাজারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। এই পরিস্থিতিতে রবিবার জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসককে হঠাৎ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রবি ও সোমবার সিলেটে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এরকম পরিস্থিতিতে সোমবার দুপুর ২টায় হঠাৎ দরগাহে যান জেলা প্রশাসক সারওয়ার। সেখানে প্রশাসনের বসানো ৪টি দানবাক্স, দরগার মহিলা এবাদতখানার একটি দানবাক্স এবং সিলগালা করা তিনটি পিতলের ডেগের টাকা গণনা করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টা গণনা শেষে প্রশাসন জানায়, চারদিনে এসব দানবাক্স ও ডেকে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, ৭ আনা সোনা ও ১০ সৌদি রিয়াল পাওয়া গেছে। শেষে প্রশাসন দানের সব টাকা সোনালী ব্যাংকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের নামে খোলা একটি অ্যাকাউন্টে জমা দেয়। সেখানে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আরও ৫ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন