প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ‘নির্ভীক জুলাই’ উদ্বোধন করেছে ডাকসু।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অম্লান রাখার প্রত্যয়ে ‘নির্ভীক জুলাই’ নামক স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করা হয়েছে।বুধবার বিকেল ৪টায় ডাকসু প্রাঙ্গণে শহীদ মেহেদী হাসান জুনায়েদের বাবা, শহীদ সোহেলের বাবা, শহীদ দ্বীন ইসলামের বাবা, শহীদ রমিজ উদ্দিনের বাবা, শহীদ সাইদুল ইসলামের মা, শহীদ জহিরুল ইসলাম শুভর মা এবং শহীদ তাহের জামান প্রিয়র মাকে সঙ্গে নিয়ে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করেন।এর আগে গত ৫ আগস্ট প্রায় ৫০ জন শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। স্মৃতিস্তম্ভটির নির্মাণের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. ইকবাল হায়দার।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. ইকবাল হায়দার ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভের ওপর একটি প্রবন্ধ পাঠ করেন। প্রবন্ধে তিনি স্থাপনাটির ভাবনা ও প্রতীকী তাৎপর্য তুলে ধরেন।তিনি উল্লেখ করেন, ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভের ভাঁজকরা ধাতব কাঠামো ক্ষতবিক্ষত হলেও ভেঙে পড়েনি; রুক্ষ হলেও দুর্বল নয়; আঘাতপ্রাপ্ত হলেও নত নয়। এটি ঊর্ধ্বমুখী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে জুলাইয়ের নির্ভীক চেতনার স্থায়ী স্থাপত্যিক অভিব্যক্তি হিসেবে।ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘নির্ভীক জুলাই’ কেবল একটি মনুমেন্ট নয়, এটি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাদের অনড় অবস্থানের প্রতীক। এখান থেকেই শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরবে এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে যেন আর কোনো নব্য ফ্যাসিবাদের জন্ম না হয় এবং ক্যাম্পাসে কোনো গণরুম বা গেস্টরুমের জুলুম ফিরে না আসে, সে বিষয়ে এই স্মৃতিস্তম্ভ সবাইকে নির্ভীক থাকার অনুপ্রেরণা দেবে। মনুমেন্টের বৃত্তাকার কাঠামো ঐক্যবদ্ধ শক্তির বার্তা বহন করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।সাদিক কায়েম আরও বলেন, বাংলার জমিনে যতদিন শহীদদের রক্তের বদলা নেওয়া না হবে এবং তাঁদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন ও ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন সংগ্রাম থামবে না।তিনি বলেন, যে জমিনে শহীদদের রক্ত ঝরেছে, সে জমিনে ইনসাফের বিজয় হবেই। জুলাই বিপ্লবের শহীদরাই তাদের আসল নায়ক। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই নতুন বাংলাদেশ পাওয়া গেছে।শহীদদের স্মৃতি ও বার্তা শুধু ক্যাম্পাসে নয়, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন এই স্মৃতিস্তম্ভে এসে সাহস, দেশপ্রেম ও ন্যায়বিচারের প্রেরণা লাভ করে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন শহীদ জোনায়েদের বাবা।মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের জন্য দোয়া করা হয়।অনুষ্ঠানে ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিমউদ্দিন খান (খান জসিম), সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, ক্যারিয়ার উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সম্পাদক আনাস ইবনে মুনির, রাইসুল ইসলাম, ডাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন