প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর হাতে গণতন্ত্র সুরক্ষিত নয়। তিনি আরও বলেন, "মানবাধিকারও তারেক রহমানের হাতে সুরক্ষিত নয়।"
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপির মানববন্ধনে এই মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। মানবাধিকার, গুম প্রতিরোধ, এসআরবি ও সাইবার আইনে গণবিরোধী সংশোধনী আনয়ন এবং নাগরিকদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, "তারেক রহমান নতুন স্বৈরাচার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।" তবে তিনি বিশ্বাস করেন, "তারেক রহমান শেখ হাসিনার মত স্বৈরাচার হতে পারবে না।" তিনি উল্লেখ করেন যে, "এদেশের জনগণ রাজপথ প্রকম্পিত করবে এবং তারেক রহমানের এই স্বৈরাচারী প্রবণতাকে রুখে দেবে।"
ভিন্নমতের নাগরিকদের দমনের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, "আজকে আমরা আপনাদের সামনে জানতে চাই মিরাজ শেখ কোথায়?" তিনি জানান, "পাঁচ মাস মিরাজ শেখের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।" গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের হাসপাতাল ভর্তি হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি এবং প্রশ্ন তোলেন, "তিনি কি সন্ত্রাস করেছেন?"
তিনি আরও বলেন, "গাজীপুরের সিফাতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে।" নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন করেন, "তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিম বানানো কি সন্ত্রাস? কটূক্তি করা কি সন্ত্রাস?"
গণবিরোধী আইন পাশের সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, "গুম আইনে এমন বিধান রাখা হয়েছে, যেখানে যারা অভিযোগ করবে সেই অভিযোগ যদি কোন কারণে ভুল প্রমাণিত হয় তাহলে তাদেরকেই শাস্তি দেওয়া হবে কয়েক বছরের।" তিনি বলেন, "ফলে এমন একটা বন্দোবস্ত করা হয়েছে যেখানে আর কেউই কোন আসলে অভিযোগ দিতে যাবে না।"
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, "বিএনপি আগে গুমের আন্তর্জাতিক তদন্ত চাইতো, জাতিসংঘের তদন্ত চাইতো।" বর্তমানে তারা গুমের বিচার চাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, "আমরা বলব অবিলম্বে এই আইনগুলো আপনারা সংশোধন করেন যাতে মানবাধিকার কমিশন নিরপেক্ষভাবে গুমের তদন্ত করতে পারে।"
সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, "এতে যাতে কোনভাবেই মত প্রকাশের অধিকারকে হরণ না করা হয় এটি নিশ্চিত করতে হবে।"
নাহিদ ইসলাম বলেন, "দুদককে নিয়ে নতুন কাণ্ড শুরু হয়েছে।" তিনি অভিযোগ করেন যে, "সাত মাস পরে দুদক পুনর্গঠন না করে এনসিপিকে টার্গেট করেছেন।"
বিরোধী দলকে টার্গেট করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "যদি সাহস থাকে ২০০১ থেকে ছয় সালের দুর্নীতির অভিযোগগুলো আপনারা তদন্ত করুন।" তিনি বলেন, "এদেশের রাস্তায় ইট পাথর থেকে আপনারা দুর্নীতি করেছেন এবং এখন মহিষ ঘাস খাবে সেখান থেকেও চাঁদাবাজি করছেন।"
সরকার জাতীয় সংসদকে কলুষিত করেছে অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, "এই সরকারের কথা ছিল তারা মানবাধিকারের সুরক্ষা দিবে, কিন্তু সেই সুরক্ষা নিশ্চিত করার বদলে পরিবর্তে তারা মানবাধিকার হরণ করা যায় এই ধরনের আইন এবং প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে।"
তিনি উল্লেখ করেন, "এ কারণে আমরা এই সংসদের সামনে দাঁড়িয়েছি।" তিনি জনগণের প্রতি মেসেজটি নিয়ে আসতে চান যে, "আমরা যে গণঅভ্যুত্থান করেছিলাম, আমরা যে লড়াই করেছিলাম দেশের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করার জন্য, গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করার জন্য, সেই গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকার এখনো এই দেশে নিশ্চিত হয়নি।"
মানববন্ধনে এনসিপি সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন