প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুরের কালকিনি এলাকায় শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক দ্বন্দ্ব মেটাতে গিয়ে মো. সিদ্দীক হাওলাদার (৬৮) নামে একজন ব্যক্তি দা দিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, হামলায় তাঁর পুরুষাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে। এই ঘটনায় সিদ্দীক হাওলাদার, তাঁর ছেলে আজিজুল হাওলাদার এবং আরও একজন, মোট তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে কালকিনি পৌর এলাকার পাঙ্গাশিয়া গ্রামের ঘরামী বাড়ির ব্রিজের ওপর এই হামটার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি পৌর এলাকার পাতাবালি গ্রামের কৃষক সিদ্দীক হাওলাদার পাঙ্গাশিয়া গ্রামের হাছেন ঘরামীর মেয়ে রেহেনাকে বিয়ে করেছেন। সম্প্রতি তাঁর দুই শ্যালকের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর দুলাভাই সিদ্দীক হাওলাদার বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। কিন্তু বিরোধ মেটাতে গিয়ে সিদ্দীক একজন পক্ষের হয়ে পক্ষপাতিত্ব করেছেন—এমন অভিযোগ ওঠে।
এই নিন্দার পর ফলশ্রুতিতে রোববার দুপুরে পাঙ্গাশিয়া গ্রামের ঘরামী বাড়ির ব্রিজের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সিদ্দীক হাওলাদারের ওপর হামলা করা হয়। এ সময় তাঁকে দা দিয়ে কোপানোর ঘটনা ঘটে। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে সিদ্দীক হাওলাদারের ছেলে আজিজুল হাওলাদার এবং আরও দুজন আহত হন।
আহতদের স্বজনদের অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে, হামলায় সিদ্দীক হাওলাদারের পুরুষাঙ্গে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। বর্তমানে অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা জানাবেন তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়টি। এ ঘটনায় সিদ্দীক হাওলাদার ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আহত সিদ্দীক হাওলাদারের পুত্রবধূ রজিনা বেগম বলেন, “আমার শ্বশুর ও আমার স্বামীসহ তিনজনকে সাজ্জাদ ঘরামী কুপিয়ে আহত করেছেন। আমার শ্বশুরের পুরুষাঙ্গে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি। এ ঘটনায় আমরা মামলা করব।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সাজ্জাদ ঘরামীর মা আয়সা বেগম বলেন, “তার জামাই ও ছেলের সঙ্গে মারামারি হয়েছে। আমার ছেলেরও হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।”
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আলম এই বিষয়ে বলেন, “হামলার ঘটনায় যদি অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, আহত সিদ্দীক হাওলাদারের অস্ত্রোপচারের পর তাঁর আঘাতের প্রকৃত অবস্থা ও পরবর্তী চিকিৎসার ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। বর্তমানে এই ঘটনায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন