প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফ্রান্সজুড়ে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও স্কুল অবরোধের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার পুলিশ ৪৪০ জনকে আটক করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, আটককৃতদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্যারিস থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শ্রেণিকক্ষে জায়গার সংকট, শিক্ষক ও কর্মীর ঘাটতি এবং দীর্ঘ সময়ের ক্লাস সূচির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ অবরোধ করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএমটিভিকে জানান, ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিক্ষোভের সময় ৪৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য আহত হয়েছেন।
ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার দেশটির প্রায় ৪০০টি বিদ্যালয় বিক্ষোভ বা কার্যক্রমের কারণে বিঘ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০টি বিদ্যালয় পুরোপুরি অবরুদ্ধ ছিল এবং আরও ৪৪টিতে অবরোধের চেষ্টা করা হয়।
বিক্ষোভের কিছু ঘটনায় সহিংসতা দেখা যায়। লিলসহ বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা ময়লার পাত্রে আগুন দেয় এবং পুলিশের দিকে বোতল, পাথরসহ বিভিন্ন বস্তু ছোড়ে। পুলিশ প্রতিক্রিয়া হিসেবে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। নুনেজ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পুলিশের ওপর হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড নিক্ষেপের সাতটি ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানান, মঙ্গলবারের ঘটনায় অন্তত ১০ জন শিক্ষা-কর্মী ও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার রয়েছে, তবে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন গত সপ্তাহে প্যারিসের আশপাশের ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে শুরু হয় এবং পরে তা দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলো বলছে, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষক সংকট এবং দীর্ঘ ক্লাস সূচির কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ বাড়ছে।
আন্দোলনের সঙ্গে একই দিনে দেশজুড়ে সরকারি কর্মীদের ধর্মঘটও অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য সরকারি কর্মীরা সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের ব্যয়সংকোচন, বেতন ও কর্মপরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই ধর্মঘটও ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি সেবায় প্রভাব ফেলেছে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সহিংসতা ও স্কুল অবরোধের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, স্কুলের কর্মী ও পুলিশকে ঝুঁকিতে ফেলে এমন কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়।
এর আগে সোমবার আন্দোলনের কারণে ১৬৪ জনকে আটক করা হয়েছিল। মঙ্গলবারের নতুন কর্মসূচির পর আটক ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৪৪০-এ দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং সরকারি কর্মীদের ধর্মঘট—দুই কর্মসূচিই ফ্রান্সের শিক্ষা ও সরকারি সেবা খাতে চলমান অসন্তোষকে সামনে এনেছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এএফপি, দ্য গার্ডিয়ান
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন