প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের সংবিধান মেনে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান হয়নি বরং এটি সংবিধান লঙ্ঘন করে সংঘটিত হয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি উল্লেখ করেন, ৫ আগস্টের পর গঠিত সরকারটি গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে। এই সরকার ১০৬ অনুচ্ছেদের সাংবিধানিক প্রতারণার ভিত্তিতে গঠিত হয়নি।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় জুলাই সনদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ৫ আগস্টের পর বিএনপির অনেক নতুন বুদ্ধিজীবী আত্মপ্রকাশ করেছেন—যাদের আমরা আগে জানতাম না। তারা মূলত দুটি যুক্তি উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। প্রথমত, তারা দাবি করেন, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তাদের মতে, গণভোটের ভাষা সাধারণ মানুষের জন্য খুব কঠিন, যা বোঝা সম্ভব নয়। এই দুটি যুক্তির মধ্যে একটি প্রতারণা লুকিয়ে রয়েছে। সরকারি দলের এই রাজনৈতিক প্রতারণা জাতির সামনে স্পষ্ট করে তুলে ধরা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও বিপ্লব—কোনোটিই সংবিধানের ধারা-উপধারা অনুসরণ করে সংঘটিত হয় না। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানও সংবিধান লঙ্ঘন করে হয়েছে। ৫ আগস্টের পর গঠিত সরকার সম্পূর্ণরূপে গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে।’
ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে পরিকল্পিতভাবে বিতর্কটিকে সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিপ্লবের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। সরকার যে দ্বিচারিতার রাজনীতি করছে, তা বুঝে হোক বা না বুঝে, তার মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, শপথ ও সরকার গঠন অবৈধ হয়ে যায়, যা বিএনপি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘নিজেদের সিংহাসন টিকিয়ে রাখার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের ততটুকুকে হালাল ও জায়েজ বলছে। বিএনপির এই প্রতারণা শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদের শাসনের বৈধতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন