বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৮:১০ এম
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করার কারণে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে নুপুর কর্মকার (১৭) নামে এক পরীক্ষার্থী।
এটি ঘটেছে বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে পৌর এলাকার আনন্দধাম এলাকায়।
নুপুর কর্মকার খোকা কর্মকারের মেয়ে। তিনি আলমডাঙ্গা পৌর এলাকায় বসবাস করতেন। এ বছর তিনি আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। নুপুর মানবিক বিভাগের ছাত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যদের তথ্যমতে, নুপুর একজন ভালো ছাত্রী ছিল। কিন্তু এসএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে ফেল করার পর সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলাফল মোবাইলে দেখার পর তার অবস্থার আরও অবনতি হয়। বুধবার বিকেলবেলা ঘরে ঢুকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয় সে।
নুপুরের পিতা খোকা কর্মকার জানান, মেয়েটি গত দুই দিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করায়। তিনি ঘর থেকে বের হতে চাননি। পরিবারের সদস্যরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। বুধবার বিকেলে অনেকবার ডাকাডাকি করার পর ঘরের মধ্যে তার কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘরে গিয়ে তিনি গলায় ফাঁস লটকে থাকতে দেখেন। পরে তাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
আলমডাঙ্গা থানার কর্মকর্তা বানী ইসরাইল জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ জানানো হয়নি। তাই মরদেহের ময়নাতদন্ত ছাড়াই সৎকারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার টিকটকারদের সংগঠন "নাসিরনগর সুপার গ্রুপ"-এর উদ্যোগে সরাইলের ধরন্তী পার্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে টিকটকারদের এক মিলনমেলা।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন অর্ধশতাধিক টিকটক সেলিব্রিটি বলেও জানা গেছে।
টিকটকারদের এই মিলনমেলায় অংশ নেওয়া টিকটকাররা তাদের ভিডিওতে বেশি লাইক, কমেন্ট, শেয়ার ও ফলো করে পাশে থাকার জন্য অনুরাগীদের প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে টিকটক সেলিব্রিটিদের ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। এ ছাড়া তারা নাচ-গানসহ বিভিন্ন পরিবেশনার আয়োজন করেন, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, উক্ত টিকটক গ্রুপের চেয়ারম্যান মোছা. হালিমা বেগম, ভাইস-চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান এবং সভাপতি হাবিব মিয়া। সংগঠনটির সদস্যপদ নিতে হলে প্রত্যেককে ২০০ টাকা করে ফি প্রদান করতে হয় বলে জানানো হয়েছে।
ধরন্তী পার্কে অনুষ্ঠিত এই মিলনমেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই এই আয়োজনের বিরুদ্ধে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মন্তব্য করছেন।
এ বিষয়ে নাসিরনগর উপজেলার সচেতন যুবসমাজের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা এ ধরনের আয়োজনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের আয়োজন এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নাসিরনগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন যে, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুয়েতে মানগাফ এলাকার একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আবদুর রউফ মোল্লা নামে একজন প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত ১০টা আন্তর্জাতিক সময়ের পর মানগাফ এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুর রউফ কুয়েতের আল তুয়েক কোম্পানির পরিচ্ছন্নতা কর্মচারী হিসেবে কাজ করছিলেন। তার জন্মস্থান মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার রাজাপুর ইউনিয়নে।
নিহতের মেয়ের জামাই মনিরুল ইসলাম জানায়, আবদুর রউফ দীর্ঘ সময় ধরে আল তুয়েক কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বাসায় ফেরার পথে একটি দ্রুতগতির গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়, যার ফলে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে প্রবেশ করানো হলে, সেখানে তার মৃত্যু ঘটে।
বর্তমানে নিহতের মরদেহ একটি মর্গে রাখা হয়েছে। সোবাহান হাসপাতালের মর্গে রয়েছে তার মরদেহ। আইনি প্রক্রিয়ার কাজ চলমান রয়েছে এবং দ্রুততার সঙ্গে মরদেহ দেশে পাঠানোর কাজ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার আশুলিয়ায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর একই ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে আশুলিয়া ইউনিয়নের শ্রীখণ্ডীয়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে নারী ও পুরুষের মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছেন আশুলিয়ার শ্রীখণ্ডীয়া এলাকার মাদানী মণ্ডলের ছেলে বাড়ির মালিক নজরুল ইসলাম (৪৭)। নিহত জামাল মোল্লার মেয়ে রেখা আক্তার (৩২)। স্থানীয়দের মতে, রেখা আক্তারের স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকেন। পুলিশ জানায়, বুধবার দুপুরে গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় নজরুল ইসলাম (৪৭) এবং ছুরিকাঘাতে নিহত রেখা আক্তারের (৩২) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত এ জোড়া খুনের রহস্য উন্মোচিত হয়নি। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, একই ঘরের ভেতর দরজায় খিল আটকানো অবস্থায় লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিহত রেখা আক্তারের স্বামী প্রবাসে থাকায় বাড়িওয়ালা নজরুল ইসলামের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে পুলিশ কোনো ক্লু বের করতে পারেনি। তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। স্বজনরা এলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এতদিন দেশের গ্রাম বা মফস্বল এলাকার উপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু এখন সেই চিরচেনা লোডশেডিং সমস্যা ঢাকায়ও আক্রমণ করেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাতে, ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারা গেছে, আজ কয়েকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছে।
কিছু স্থানে একটানা এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না, আবার কিছু কিছু এলাকায় একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে তীব্র গরমের মধ্যে নগরবাসী গুরুতর ভোগান্তিতে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভুক্তভোগীদের স্ট্যাটাসে এই যন্ত্রণার চিত্র পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবরিনা আফরিন নামে এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, "গ্রাম ছেড়ে লোডশেডিং এখন ঢাকায়।"
আশিক খান নামের একজন লিখেছেন, "রাত ৩টা বাজে, সারাদিনের ক্লান্ত শরীরগুলো ঘুমাচ্ছে, বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিসে। গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠে পাঙ্খা দিয়া বাতাস করতাছি আর ভাবতাছি এ কোন পাপের ফল? এ কোন সোনার বাংলায় জন্ম নিলাম যেখানে নাগরিক ঘুমাইয়াও শান্তি পায় না।"
সিফাত আরিয়ান লিখেছেন, "সকালে বেরিয়ে সারাদিন দৌড়ঝাঁপ করে রাত সোয়া ১১ টায় আমি যখন বাসায় আসলাম, তখন বিদ্যুৎ চলে গেল।"
এদিকে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য অনুযায়ী, ১২ আগস্ট রাত ৯টায় (সন্ধ্যা পিক) বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৬ হাজার ৯৩ মেগাওয়াট। আর দুপুর ১২টায় (ডে পিক) বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ৬৩৫ মেগাওয়াট।
যাহোক, ডে পিকে আদানি থেকে ৯৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এলেও সন্ধ্যা পিকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩০ মেগাওয়াটে। সামগ্রিকভাবে সারাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। সেই হিসাবে রাতেও ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ লোডশেডিং দিতে হয়েছে।
এতদিন গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেশি থাকলেও এবার রাজধানীতেও এর বিস্তৃতি নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তীব্র গরমের মধ্যে ঢাকায়ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে দুর্ভোগ বেড়েছে।
তবে ঢাকার DESCO ও DPDC এলাকায় জাতীয় ঘাটতির প্রভাব তুলনামূলক কম হলেও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বুধবার থেকে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ