প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে টিকিটের দাম নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচের টিকিটের গড় মূল্য যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়ার ইতিহাসে বর্তমানে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ইভেন্টের রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ফলে এনএফএল সুপার বোল এবং এনবিএ ফাইনালের টিকিটের দামকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে বিশ্বকাপের ফাইনাল।
টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম টিকপিকের তথ্য অনুযায়ী, ফিফার শেষ মুহূর্তের বিক্রয় সাইটে কেবল 'ফ্রন্ট ক্যাটাগরি-১'-এর সীমিতসংখ্যক টিকিট অবশিষ্ট রয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত প্রত্যেকটি টিকিটের মূল্য ছিল ৩০,০০০ মার্কিন ডলার।
ফিফার আনুষ্ঠানিক রিসেল প্ল্যাটফর্মেও টিকিটের দাম অত্যধিক বেশি। সেখানে ক্যাটাগরি-৩-এর সবচেয়ে কম দামের টিকিটের মূল্য প্রায় ৮,০০০ ডলার। ক্যাটাগরি-১-এর টিকিট শুরু হচ্ছে ১১,৭০০ ডলার থেকে। অন্যদিকে ফ্রন্ট ক্যাটাগরি-১-এর টিকিট কিনতে গুনতে হচ্ছে অন্তত ১৭,২০০ ডলার। হুইলচেয়ার ও সহজ প্রবেশাধিকার বিভাগের টিকিটের দামও ১৪,০০০ থেকে ২০,০০০ ডলারের মধ্যে।
তবে বেসরকারি রিসেল প্ল্যাটফর্মে দাম আরও বিস্ময়কর। সেখানে ক্যাটাগরি-১-এর একটি টিকিটের মূল্য ৫,৭৫,০০০ ডলার, ফ্রন্ট ক্যাটাগরি-১-এর টিকিট ৫,৯৫,০০০ ডলার এবং ক্যাটাগরি-৩-এর একটি আসনের মূল্য সর্বোচ্চ ২৩,০০,০০০ ডলার পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। যদিও এই দামে টিকিট বিক্রি হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে চলতি বিশ্বকাপে টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
সম্পর্কিত তুলনায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এনএফএল সুপার বোলের টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য ম্যাচের তিন দিন আগে প্রায় ৪,৫০০ ডলার ছিল। আর জুনে অনুষ্ঠিত এনবিএ ফাইনালের একটি ম্যাচের টিকিট শুরু হয়েছিল প্রায় ৭,০০০ ডলার থেকে।
বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রিতে 'ডাইনামিক প্রাইসিং' পদ্ধতি চালু করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এই পদ্ধতিতে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকিটের দামও বৃদ্ধি পায়।
এপ্রিল মাসে টিকিট বিক্রির চতুর্থ ধাপে ক্যাটাগরি-১-এর টিকিটের প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০,৯৯০ ডলার, যা আগের বছরের অক্টোবরের শুরুর দামের তুলনায় ৭০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে, ক্যাটাগরি-২ এবং ক্যাটাগরি-৩-এর টিকিটের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্য ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের গড় টিকিট মূল্যের তুলনায় চার থেকে ছয় গুণ বেশি। এরপর ফাইনাল যত ঘনিয়ে এসেছে, টিকিটের মূল্যও তত বেড়েছে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ধারণা করা হয়েছিল, এত বেশি দামের কারণে অনেক স্টেডিয়ামেই দর্শকসংখ্যা কম হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে ১৬টি আয়োজক শহরের অধিকাংশ ম্যাচই ছিল দর্শকে পূর্ণ। ফাইনালও সম্পূর্ণ দর্শকপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বিশ্বকাপের টিকিটের এই অস্বাভাবিক মূল্য ভবিষ্যতে সাধারণ সমর্থকদের জন্য টুর্নামেন্ট উপভোগ করা আরও কঠিন করে তুলতে পারে। একই সাথে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকেও কি একই ধরনের মূল্যনীতি অনুসরণ করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন