প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইন্দোনেশিয়ার মধ্যাঞ্চলের কাছে স্থানীয় সময় শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের পর দেশটিতে স্থানীয় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) জানাচ্ছে, মূল ভূমিকম্পের পর ৫ দশমিক ৯, ৫ দশমিক ৬ ও ৬ দশমিক ১ মাত্রার তিনটি পরাকম্পন অনুভূত হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্যমতে, ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা বৃদ্ধদের সৈকত ও নদীর তীর থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা জানিয়েছে, অগভীর সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছে ফ্লোরেস দ্বীপের কাছাকাছি। ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে চলে যাওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিমুর সাগরের অপর পাশে থাকা অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আপাতত দেশটিতে কোনো সুনামির হুমকি নেই।
ভূমিকম্পের কম্পনের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে ইউএসজিএসের প্রাথমিক হিসাবে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইন্দোনেশীয় সরকার এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
ইউএসজিএস পেজারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫ লাখ মানুষ অত্যন্ত শক্তিশালী বা তীব্র কম্পনের মুখে পড়েছেন। এ ধরনের কম্পনে শক্তভাবে নির্মিত ভবনে সামান্য থেকে মাঝারি ক্ষতি ঘটে এবং দুর্বলভাবে নির্মিত স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
ইন্দোনেশিয়া অতীতেও বেশ কয়েকটি ভয়াবহ ভূমিকম্পের মুখোমুখি হয়েছে। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগর ঘিরে থাকা ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত। এটি বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা, যেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। এই বলয়টি একদিকে জাপান ও ইন্দোনেশিয়া থেকে অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত বিস্তৃত।
২০০৪ সালের ভয়াবহ ভারত মহাসাগরীয় সুনামির সূত্রপাতও হয়েছিল ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে ৯ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের পর। ওই দুর্যোগে ভারত মহাসাগরের উপকূলবর্তী এলাকায় ২ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যান। তাদের অর্ধেকের বেশি ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার বাসিন্দা।
এরপর ২০১৮ সালের আগস্টে লম্বক দ্বীপে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে শত শত মানুষ মারা যান। একই মাসের শেষ দিকে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি দ্বীপে পরপর তিনটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।
ওই বছরের সেপ্টেম্বরে সুলাওয়েসি দ্বীপে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সুনামি আঘাত হানে। এতে আরও শত শত মানুষ মারা যান। এ ছাড়া ২০২২ সালের নভেম্বরে পশ্চিম জাভার সিয়ানজুর অঞ্চলে ৬ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে শত শত মানুষ মারা যান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন