প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজায় দখলদার ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সামরিক কার্যক্রম নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’-র নির্মাতাদের সমর্থনে দুই শতাধিক ইসরাইলি চলচ্চিত্র নির্মাতা একটি পিটিশনে সই করেছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ইসরাইলি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এই নির্মাতাদের মধ্যে অরি ফোলম্যান ও শ্লোমি এলকাবেটজের মতো খ্যাতনামা পরিচালকেরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘শিল্প ও সাংবাদিকতার মূল কাজ হলো সমাজে আয়না ধরা।’
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরে তথ্যচিত্রটি স্পেশাল জুরি প্রাইজ জেতার পর নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম এবং রাচেল জোর বিভিন্ন সমালোচনা ও হুমকির সম্মুখীন হন। তাদের প্রতি সমর্থন জানাতেই চলচ্চিত্র নির্মাতারা একত্রিত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইসরাইলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী মিকি জোহর দেশের নির্মাতাদের এই কাজকে ‘দেশদ্রোহিতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তাদের ইসরাইলি নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দিয়েছেন।
তবে ইসরাইলি আইন অনুযায়ী, সংস্কৃতিমন্ত্রীর একার পক্ষে কারো নাগরিকত্ব বাতিল করার ক্ষমতা নেই; এর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
তথ্যচিত্রে কী তুলে ধরা হয়েছে?
ব্রিটিশ পত্রিকা ‘দ্য গার্ডিয়ান’ এবং ‘জেডব্লিউ ফিল্মস’-এর যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘নাজা’ তথ্যচিত্রটি ২৪ জন বেনামি ইসরাইলি সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। গাজায় নজরদারি, টার্গেট নির্বাচন এবং হামলার প্রক্রিয়া এতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
হিব্রু ভাষায় ‘নাজা’ শব্দটি কোনো হামলায় সম্ভাব্য সাধারণ মানুষের মৃত্যু বা ‘কোলাটারাল ড্যামেজ’-কে বোঝায়। তথ্যচিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে টার্গেট নির্ধারণ এবং সাধারণ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও হামলা চালানোর মতো গুরুতর বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
তথ্যচিত্রটির নির্মাতাদের মতে, এটি কোনো একক সেনার ভুল নয়, বরং ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক নীতির ফলস্বরূপ।
এদিকে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী তথ্যচিত্রে উপস্থাপিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, বেনামি উৎস থেকে পাওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব নয়। তারা আরও জানায়, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়, বরং সামরিক নিয়ম মেনে মানুষই এসব হামলার সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, এর আগে এই দুই নির্মাতা ফিলিস্তিনি নির্মাতাদের সঙ্গে মিলে অস্কারজয়ী তথ্যচিত্র ‘নো আদার ল্যান্ড’ তৈরি করেছিলেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন