প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকার ইসিবি চত্বর এলাকার নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পের অফিস ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশ এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ছয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া একজন হলেন শাহ আলম অনিক, যিনি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি বলেন, "গতকাল তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানান—তিনি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।"
অন্য গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মামুন, আসলাম, মুন্না এবং শাহরিয়ার মাহমুদ। পুলিশের পক্ষ থেকে আরেকজন গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম জানানো হয়নি। মামুনের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে, তিনি ভাষানটেক বস্তিতে বসবাস করেন। আসলামের বাড়ি টাঙ্গাইলে, এবং তিনি অটোরিকশা চালান, তিনিও ভাষানটেক বস্তিতে থাকতেন।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানিয়েছেন, "আমরা আরো একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। আপাতত তার নাম বলতে পারছি না। অভিযান অব্যাহত আছে, বাকিরাও ধরা পড়বে।"
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজন এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। উল্লেখ্য, গত শনিবার দিবাগত রাতে নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পের অফিস ও আশপাশের স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে। এই স্থাপনায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’ও রয়েছে। পরদিন রবিবার আবাসন প্রকল্পের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার কারণে আসামিরা অস্ত্র নিয়ে স্থাপনায় প্রবেশ করে গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এ সময় প্রকৌশলী ও নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে বাদী ওই স্থাপনায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় এক নম্বর আসামি শাহরিয়ার মাহমুদের নির্দেশে অন্যান্য আসামিরা অস্ত্র নিয়ে স্থাপনায় প্রবেশ করেন। তাদের হাতে শটগান, রিভলবার, চাপাতি, রামদা, ছোরা, রড ও লাঠিসোঁটা ছিল।
বাদীর অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রায় ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এতে প্রকল্পের শ্রমিক ও নিরাপত্তাকর্মীরা প্রাণভয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। বাদীও নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীরা প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার পারভেজকে মারধর করে জখম করেন। দুই নম্বর আসামি আবুল কাশেম রিভলবারের মাথা দিয়ে পারভেজের মাথায় আঘাত করেন, যার ফলে তার মাথা ফেটে যায়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পারভেজের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে, বাম হাত ও পিঠে কোপ দেওয়া হয়। তার পকেটে থাকা সাত হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
পারভেজকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে প্রকল্পের নিরাপত্তাকর্মী সৈয়দ নজরুল ইসলামকেও মারধর করা হয়। তার কাছ থেকে নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত একটি ওয়্যারলেস সেট, দুই হাজার টাকা ও একটি আইটেল বাটন ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে আরো বলা হয়েছে, আসামিরা স্থাপনার মূল ফটকে ১০ রাউন্ড গুলি করেন। এ সময় লোহার গেট, থাই গ্লাস ও কাঁচের গেট ভাঙচুর করা হয়। এরপর হামলাকারীরা প্রকল্পের অফিসকক্ষে ঢুকে চারটি কম্পিউটার মনিটর, চারটি ডিডিআর, একটি এলজি ফ্রিজ, সাতটি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ, চারটি কাঠের টেবিল, আটটি চেয়ার ও একটি কাঠের আলমারি ভাঙচুর করেন।
এজাহার অনুযায়ী, অফিসকক্ষের লকার ভেঙে নির্মাণসামগ্রী কেনার জন্য রাখা ২৫ লাখ টাকা নিয়ে যান হামলাকারীরা। এছাড়া নির্মাণকাজের জন্য রাখা একেএস কম্পানির ১০ ও ২০ মিলিমিটার ২৩ টন রড, যার আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা, নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বাদী আরো অভিযোগ করেছেন যে, ওই ভবনের সামনে রাখা ফ্ল্যাট মালিক সুমনের চার লাখ টাকা মূল্যের একটি সিএফ মোটর স্কুটারও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এজাহারে আরো বলা হয়েছে, হামলাকারীরা মারওয়া টাওয়ারের নিচতলার স্টোররুমে ঢুকে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যান।
মামলায় এজাহারভুক্ত ১৩ আসামির মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী, শাহরিয়ার মাহমুদ, আবুল কাশেম, বাবুল হোসেন, মোহাম্মদ শাহিনুজ্জামান, মতিউর রহমান, মজিবুর রহমান, নুরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, এমকে আজাদ, মামুন, আসলাম ও মুন্না।
মামলার এজাহারে টিভি, উচ্চমাত্রার এডিটিং ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার, সার্ভার সেটআপ, গিটার, পানির ট্যাংক, মেমোরি কার্ড, সাউন্ড কার্ড, ক্যামেরা, ট্রাইপড, মাইক্রোফোন, ফার্নিচার, ভিবিএস কয়েনসহ ৩৭ ধরনের জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন