১১:১৬ পি.এম
‘কারা নীতি ও যুদ্ধাপরাধে সংশ্লিষ্টতার’ কারণে গ্রেপ্তারের ভয়ে চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘের পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে না যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, তার এই সফরের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বিক্ষোভ এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে তাকে তদন্ত ও গ্রেপ্তারের ক্রমবর্ধমান দাবির মুখে আসন্ন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এটি নিয়ে একটি মাসের মধ্যে বেন-গাভিরের দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল তিনি করলেন। দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, গত মাসেও বিভিন্ন ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তিনি একটি পরিকল্পিত ব্যক্তিগত সফর বাতিল করেছিলেন। তবে, পত্রিকাটি যোগ করেছে, ব্যক্তিগত সফরের মতো এই জাতিসংঘের সম্মেলনে বেন-গাভিরের প্রবেশে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা ছিল না, কারণ তিনি একটি সরকারি ইসরায়েলি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছিলেন।
আরও পড়ুন: ক্যানসার সচেতনতায় বাকৃবিতে সিসিআরটিবির ক্যাম্পাস চ্যাপ্টার গঠনের উদ্যোগ, আবেদন ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত
ইসরায়েলি দৈনিক ‘জেরুজালেম পোস্ট’ শনিবার (৪ জুলাই) জানিয়েছে, বেন-গাভিরের কার্যালয় এখনো এই সফর বাতিলের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। এর আগের দিন, ইসরায়েলি দৈনিক ‘হারেৎজ’ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানায়, এই আইনি চাপ এবং বিক্ষোভের কারণে মূলত সফর এড়ানোর সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। তবে, তার কার্যালয় এটা নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি, যে এটি আইনি চাপের সঙ্গে যুক্ত কি না।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, মঙ্গল (৬ জুলাই) এবং বুধবার (৭ জুলাই) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের পুলিশ প্রধানদের শীর্ষ সম্মেলনে (UN Chiefs of Police Summit) বেন-গাভিরের অংশগ্রহণের কথা ছিল।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে, বেলজিয়ামভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিন্দ রজব ফাউন্ডেশন’ যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষকে বেন-গাভিরের বিতর্কিত কারানীতির কারণে তাকে আটক ও বিচার করার জন্য আহ্বান জানায়। ‘হিন্দ রজব ফাউন্ডেশন’ বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি সেনা এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি মামলা দায়েরের কাজের জন্য পরিচিত।
সংস্থাটি নিউইয়র্কভিত্তিক ‘সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটস’-এর সাথে যৌথভাবে মার্কিন বিচার বিভাগে একটি অভিযোগ দায়ের করে এবং নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমসের কাছে এ বিষয়ে তদন্ত শুরুর দাবি জানায়।
আরও পড়ুন: আজ যেসব দামে স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি হচ্ছে
ফাউন্ডেশনটির অভিযোগ রয়েছে, বেন-গাভির তার কর্তৃত্ব ব্যবহার করে, বিশেষ করে ইসরায়েল কারা পরিষেবার (যা তার নজরদারিতে রয়েছে) অধীনে পদ্ধতিগত নির্যাতন, হত্যা, অপব্যবহার এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির নীতি কার্যকর করেছেন।
সংস্থাগুলো যুক্তি দিয়েছে, লেটিটিয়া জেমসের এই তদন্ত করার এখতিয়ার রয়েছে, কারণ নিউইয়র্কের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা বেন-গাভিরের অপরাধমূলক আচরণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তিনি নিউইয়র্কে অবস্থানকালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে পারেন।
তারা নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের জড়িত থাকার ১১টি কথিত মামলার কথা উল্লেখ করেছে, যার মধ্যে গত দুই বছরে গাজাগামী ত্রাণবাহী নৌবহরে (এইড ফ্লোটিলা) থাকা ১০ জন ব্যক্তি রয়েছেন, যারা ইসরায়েল কর্তৃক আটক হওয়ার পর নির্যাতন এবং অপব্যবহারের শিকার হয়েছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর মার্কিন সমর্থনে গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপত্যকাটির প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগ কোনো অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়: মাহদী আমিন
মার্কিন বিচার বিভাগে পাঠানো ওই চিঠিতে একজন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিকের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি ইসরায়েলি কারাগারে আটক থাকাকালীন অনাহার এবং অন্যান্য নির্যাতন পদ্ধতির শিকার হন।
হিন্দ রজব ফাউন্ডেশন শনিবার (৪ জুলাই) সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স -এ লিখেছে, তারা গত রিপোর্টকে স্বাগত জানাচ্ছে যে হিন্দ রজব ফাউন্ডেশন ও সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটস-এর আইনি পদক্ষেপের পর ইসরায়েলি মন্ত্রী বেন-গাভির নিউইয়র্ক সফর বাতিল করেছেন। তারা উল্লেখ করে যে, ইসরায়েলি রাজনৈতিক এবং সামরিক নেতারা দায়মুক্তি বা শাস্তিহীনতার আশা নিয়ে বিশ্বের নানা দেশে ভ্রমণ করতেন, কিন্তু সেই প্রত্যাশা এখন ক্ষয় শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন