প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে ইসরাইলই বাধা দিচ্ছে, এমন অভিযোগ হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে যে, চুক্তির প্রথম ধাপের সম্মত হওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি থেকে ইসরাইল সরে গেছে এবং তারা এখনো চুক্তি লঙ্ঘন করে চলেছে। এ বিষয়ে তথ্য এসেছে আনাদোলু এজেন্সি ও রয়টার্সের মাধ্যমে।
গত সোমবার (১৭ আগস্ট), মিশরের রাজধানী কায়রোতে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান খলিল আল-হাইয়া ও ফাতাহর ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কারেন্টের নেতা মোহাম্মদ দাহলানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে, গাজার যুদ্ধবিরতি, চুক্তির পরবর্তী ধাপের বাস্তবায়ন, মানবিক সহায়তা এবং অঞ্চলের রাজনৈতিক ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের শেষে, আল-হাইয়া ফিলিস্তিনি বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা চালান। সে সময় তিনি যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী ও মিসরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক বৈঠকের বিষয় সম্পর্কে তারা অবহিত করেন।
এরপরই, ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর নেতারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে গড়িমসি করার অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবির ভিত্তিতে, দেখা যায় যে চুক্তির প্রথম ধাপে যেসব বিষয়ের জন্য ইসরাইল সম্মত হয়েছিল, সেগুলোর বেশিরভাগই বাস্তবায়ন করা হয়নি এবং বরং তেল আবিব নতুন নতুন শর্ত আরোপ করতে বিলম্ব করছে।
এদিকে, গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের জন্য কায়রোতে কূটনৈতিক তৎপরতা অনেক জোরদার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনারও সম্প্রতি আল-হাইয়ার সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন।
মার্কিন প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজার পুনর্গঠন রয়েছে। কিন্তু ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন যে, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার ও গাজার পুনর্গঠনে সম্মতি দিতে তিনি অস্বীকার করেছেন।
হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা পরিকল্পনাটি নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত, তবে ইসরাইলকে আগে হামলা বন্ধ করতে এবং গাজার নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। ফলে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী ধাপের বাস্তবায়ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
মোহাম্মদ দাহলানের নেতৃত্বাধীন ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কারেন্ট ফাতাহর মধ্যে একটি শক্তিশালী সংস্কারপন্থী গোষ্ঠী। এই সংগঠনটি ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ফাতাহ নেতৃত্বের বাইরে স্ব-স্বাধীনভাবে আরও কার্যক্রম পরিচালনা করে। গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন এবং পুনর্গঠন নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা দাহলানের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন