প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রেজাউল করিম নাঈমকে হত্যার ঘটনায় জেলা দায়রা জজ আদালত চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া, সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় পাঁচজনকে মামলা থেকে খালাস করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মুহাম্মদ রবিউল আউয়াল এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন মো. নুরুল ইসলাম, মো. সাইমন ইসলাম, নাহিদুল ইসলাম রনি এবং আনোয়ার হোসেন। উল্লেখ্য, নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।
খালাসপ্রাপ্তদের মধ্যে আছেন ইমন মিয়া (পলাতক), আল আমিন, সাকির আহমদ শাকিল, পারভীন বেগম এবং রুখসানা আক্তার জেসি।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় চাঁদা নিতে আসা আসামি নুরুল ইসলাম এবং অন্যান্য আসামিরা মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বর্ষিজোড়া গ্রামে চেরাগ মিয়ার বাসায় প্রবেশ করে নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া ও মা শামসুন নাহারকে গালাগালি ও মারধর শুরু করেন। নাঈম যখন ঘটনা থামাতে এগিয়ে আসেন, তখন আসামিরা তাকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। পরে নাঈমকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার দুদিন পর, ৯ নভেম্বর, নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া বাদী হয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮-এর ৩৬৮(১) ধারার বিধানমতে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত চার আসামিকে মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে কার্যকর করার নির্দেশ দেন আদালতের বিজ্ঞ বিচারক।
পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "প্রকৃত আসামিদের দণ্ড প্রদানে বাদী পক্ষসহ আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা বাড়বে। অপরাধীরা বুঝতে পারবে যে অপরাধ করে আইনি সাজা থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।"
কলেজছাত্র নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া ও তার স্বজনরা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।" তারা এই রায় দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যাশা এবং পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফনিলাল ধর ও স্বজনরা জানিয়েছেন, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন