০৩:৫১ পি.এম
মডেল মোসা. সিমু আক্তার বৃষ্টি ওরফে মিষ্টি সুবাস এখন গ্রেপ্তার হয়েছে। তিনি জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন। সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে আলোচনায় আসা এই মডেলকে রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
মিষ্টি সুবাসের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী এই বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘আজ এ আসামির গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করে জামিন চাই। তবে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।’
গত ২৪ জুন এই মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার 보여 দেয়ার আবেদন করেন মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম। আদালত ওই দিন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য রবিবার দিন নির্ধারণ করেন।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশ
আদালতে তোলার সময় মিষ্টি সুবাস সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি কিছু বললে কারাগার থেকে বের হতে পারব না। আমি কারাগার থেকে বের হতে চাই।’ পরে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় মিষ্টি সুবাস বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার নাতনি, আমাকে বারবার মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। এজন্য কথা বলতে চাই না। কথা বললে বের হতে পারব না।’
আটকের আবেদনে বলা হচ্ছে, আসামি খারাপ প্রকৃতির ব্যক্তি। সহযোগীদের সহায়তায় তিনি বিভিন্ন স্থানে দাঙ্গা হাঙ্গামা করে বেড়ান। মামলার বাদী বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। তাই এই ছাত্র আন্দোলনের সব মিছিলে বাদী উপস্থিত ছিলেন।
আসামি এই মামলার এজাহার নামীয় আসামিদের সাথে মামলার ঘটনা সংগঠন করেছে মর্মে তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা একান্ত প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টায় বাদী মো. শাকিল বাবু তার ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে বাইপাইল মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। একটি পরবর্তীতে বিকেল সাড়ে ৩টার সময় আশুলিয়া থানাধীন বাইপাইল মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আসামিদেরসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা অস্ত্রশস্ত্র, লাঠিসহ হামলা চালায়। এ সময় আসামিরা বাদীর ডান পায়ের পেছনে গুলি করে।
আরও পড়ুন: জামায়াত নেতাদের ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি, রাশেদকে চ্যালেঞ্জ
গুলিতে বাদীর রগ ছিঁড়ে বের হয়ে যায়। তখন বাদী রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে তার সহযোদ্ধারা ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। উল্লেখ্য যে, গত ২৬ মার্চ দুপুর ১টা ১০ মিনিটে আশুলিয়া থানাধীন নবীনগর জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল বেদির সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২ বা ২৫ জন নেতা-কর্মী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, অবৈধ নির্বাচনের অবৈধ সরকার মানি না মানব না, শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে স্লোগান দেয়।
এ সময় মিষ্টি সুবাসসহ দুজনকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় আসলে তিনি জামিনে কারামুক্ত হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন