প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির দু’টি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ করে উপজেলা প্রশাসন ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৬৫০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে। প্রশাসনের দাবি হচ্ছে, নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রেখেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় বরাদ্দের একটি বড় অংশ ব্যয় হয়নি। সরকারী কোষাগারে সেই উদ্বৃত্ত অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে প্রশংসাও পাচ্ছেন তারা।
বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে যে, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের সাধুখালী মই বিলে কানাই মন্ডলের পুকুর চালা থেকে সাধুখালী শরিষার বিল ভায়া সাধুখালী মাধুরীর বাড়ী সংলগ্ন ব্রীজ থেকে বহলাকুন্ডু রতনের পুকুর চালা পর্যন্ত ৩ কি.মি. খাল খনন ও পুণঃখননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া, জামালপুর ইউনিয়নের খামার মাগুরা রফিকের বাড়ী থেকে হাতিমোহন হয়ে মাশালিয়া খাল পর্যন্ত খাল পুণঃখনন ৩ কি.মি. করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের আওতায় মোট ১ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ১৪ মে ও শেষ হয় ২২ জুন। দুই খালের মোট দৈর্ঘ্য ৬ কিলোমিটার।
খাল খনন শেষে অবশিষ্ট ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। জামালপুর ইউনিয়নের খামার মাগুরা রফিকের বাড়ী থেকে হাতিমোহন হয়ে মাশালিয়া খাল পর্যন্ত ৩ কি.মি. খাল খননের পর অব্যয়িত ১২ লাখ ৬৯ হাজার ৮১০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। সব মিলে, দুই প্রকল্পে মোট বরাদ্দের অবশিষ্ট ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৬৫০ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত যাচ্ছে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে খাল দু’টির পাড়ে ৩ হাজার ৪০০টি বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পুনঃখননের ফলে খাল দুটির পানি ধারণক্ষমতা ও নাব্যতা বেড়েছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে।
স্থানীয় সুশিল কুমার এবং আরব আলী জানিয়েছেন, আগে বর্ষায় খালে পানি জমে থাকায় আশপাশের জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হতো। এখন খাল পুনঃখননের পর তারা আশা করছেন যে পানি দ্রুত নেমে যাবে। এতে সময়মতো ধান, পাট, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করা সহজ হবে এবং বছরে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ আরও বাড়বে।
জঙ্গল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কল্লোল কুমার বসু বললেন, খাল খনন ও পুনঃখননের ফলে জঙ্গল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের জলাবদ্ধতা কমতে শুরু করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সংযোগ খালগুলোও পুনঃখনন করা গেলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কোহিনুর জাহান উল্লেখ করেন যে, জঙ্গল ও জামালপুর খাল পুণঃখনন করায় এলাকার কৃষকরা উপকৃত হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে উপজেলার আরও খাল পুনঃখননের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদনে বছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুফল মিলতে পারে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, প্রকল্পের কাজের মান বজায় রেখেই সরকারি অর্থের সাশ্রয় নিশ্চিত করা হয়েছে। অব্যয়িত ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৬৫০ টাকা বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, স্থানীয় কৃষকরা দীর্ঘমেয়াদে খাল খনন ও পুনঃখনন করায় সুফল পাবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন