প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার খিদিরপাড়া গ্রামে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পিবিআই সদস্য পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে এক অসহায় পরিবারের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, নিখোঁজ মেয়েকে উদ্ধার করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি প্রতারক চক্র কৌশলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগে জানা যায়, লৌহজং উপজেলার খিদিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ বাবু শেখের মেয়ে কয়েক মাস আগে এক যুবকের সঙ্গে বাড়ি থেকে চলে যান। ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে লৌহজং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। দীর্ঘদিন মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত পরিবারটি বিভিন্ন মাধ্যমে সহযোগিতা খোঁজার চেষ্টা চালায়।
এক পর্যায়ে তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় মোহাম্মদ শাজাহান নামের এক ব্যক্তির, যার বাড়ি মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বলই এলাকায় বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, শাজাহান নিজেকে কখনো অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, আবার কখনো পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারকে আশ্বস্ত করেন যে, বিশেষ প্রযুক্তি, আধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা এবং নিজস্ব লোকবলের সহায়তায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নিখোঁজ মেয়েকে উদ্ধার করা সম্ভব।
বাবু শেখের অভিযোগ, মেয়েকে উদ্ধারের নামে প্রথমে ২০ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে আরও ৮০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন শাজাহান। মোট ১ লাখ টাকা নেওয়ার সময় তিনি দাবি করেন, বিদেশি প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ ট্র্যাকিং মেশিন ব্যবহার করে মেয়ের অবস্থান শনাক্ত করা হবে এবং দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তবে টাকা গ্রহণের পর এক মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও মেয়েকে উদ্ধারের বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। বরং প্রতিবার যোগাযোগের সময় নতুন নতুন অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে। এতে সন্দেহের সৃষ্টি হলে পরিবারটি বুঝতে পারে যে তারা একটি প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীর ভাষ্য, বাবু শেখ একজন সৎ, পরিশ্রমী ও সহজ-সরল মানুষ। তার পারিবারিক দুর্দশা ও মানসিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারক চক্রটি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গেলে খিদিরপাড়া গ্রামের একাধিক বাসিন্দা সাংবাদিকদের কাছে একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা দাবি করেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং অর্থ আদায়ের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোহাম্মদ শাজাহানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া সংবাদকর্মীকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী বাবু শেখ দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে বেশি অনুসন্ধান বা অভিযোগ করলে তাকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে শাজাহান হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাকে বলা হয়েছে, এ বিষয় নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে ভালো হবে না।”
এ ঘটনায় খিদিরপাড়াসহ আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অর্থ আত্মসাতের মতো অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয়, কর্মকাণ্ড ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত সম্ভাব্য চক্রকে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান তারা।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও অনেক নিরীহ মানুষ এ ধরনের প্রতারণার শিকার হতে পারেন।
এই সংস্করণটি সংবাদপত্রের রিপোর্টিং স্টাইলে আরও পেশাদার, প্রমিত বাংলা বানানসমৃদ্ধ এবং প্রকাশযোগ্য আকারে সাজানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন