প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাগেরহাট, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ : সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নদী দূষণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে পর্যটকবাহী নৌযানে ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিন রাখতে সহ বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ, আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় মোংলা ফরেস্ট ঘাটের ফুয়েল জেটিতে নৌযান মালিক এবং চালকদের নিয়ে একটি আলোচনা সভা আয়োজন করে। এই আলোচনা সভায় নির্দেশনাগুলি প্রদান করা হয়।
সভায় পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আসাদুর রহমান বলেন, "প্রতিটি পর্যটকবাহী নৌযানে ঢাকনাযুক্ত প্যাডেল বিন রাখতে হবে।" তিনি আরো বলেন, "কোনো ধরনের বর্জ্য নদীতে ফেলা যাবে না।" ভ্রমণ শেষে ডাস্টবিনের জমা বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। একইসঙ্গে নৌযানে উচ্চ শব্দে গান-বাজনা না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী উল্লেখ করেন, "সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে নদী দূষণ রোধে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।"
সভায় উপস্থিত নৌযান মালিক ও চালকরা মোংলা ফেরিঘাট এবং পিকনিক কর্নারে স্থায়ীভাবে তিনটি ডাস্টবিন স্থাপনের দাবি জানান। নদী দূষণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের অঙ্গীকারও করেন নিম্নোক্ত ব্যক্তিরা।
এই সময়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক দেলোয়ার হোসেন, জালি বোট মালিক সমিতির মোংলার সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী, সভাপতি ইমাদুল হোসেন, মাঝিমাল্লা ইউনিয়ন সংঘের জয়েন্ট সেক্রেটারি সোহাগ হাওলাদার এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় নৌযান মালিক ও চালকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মোট ৫০ জন নৌযান মালিক ও চালক অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। সভা শেষে পর্যটকদের সচেতনতায় বিভিন্ন নৌযানে এসব লিফলেট লাগিয়ে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, সুন্দরবনের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে বিখ্যাত বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন অংশে বন বিভাগের সংরক্ষিত পর্যটন স্পট করমজল অবস্থিত। প্রতিদিন শত শত পর্যটক মোংলা ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌযানে করমজল ভ্রমণে যান।
এসময় পর্যটকদের সঙ্গে করে নেওয়া চিপস, বিস্কুট, চকলেটসহ বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবার ও পানির বোতল নদীতে ফেলায় সুন্দরবন ও সংলগ্ন নদ-নদীর পানি দূষিত হচ্ছে, যা জীববৈচিত্র্যের জন্যেও হুমকির সৃষ্টি করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন