প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. তাজমুন্নাহারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে।
তার বিরুদ্ধে রয়েছে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, তদন্তে হস্তক্ষেপ, সরকারি বিল জিম্মি, শিক্ষক হয়রানি এবং চরম প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার কারণে বালিয়াকান্দির প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে।
উপজেলার প্রধান শিক্ষকদের দাবি, ৯৯টি বিদ্যালয়ের স্লিপ ফান্ডের প্রায় ২০ লাখ টাকা, প্রাক-প্রাথমিকের ৭ লক্ষাধিক টাকা এবং বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ৪ লক্ষাধিক টাকা বিদ্যালয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার পরেও তারা তা তুলতে পারছেন না। শিক্ষকদের দাবি, ব্যাংকে চিঠি দিয়ে একাউন্ট ফ্রিজ করে রেখেছেন।
সোনালী ব্যাংক, বালিয়াকান্দি শাখার ব্যবস্থাপক মোতাহার হোসেন জানিয়েছেন, শিক্ষা অফিসার তাজমুন্নাহার স্লিপ ফান্ড ও প্রাক-প্রাথমিক বিষয়ক কিছু বিল জমা রাখার জন্য একটি চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, তার প্রত্যয়ন ছাড়া শিক্ষকরা যেন কোনো বিল উত্তোলন করতে না পারেন।
সম্প্রতি অবসরে যাওয়া এক শিক্ষকের পেনশন ফাইল আটকে টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টাকা না দেওয়ায় রাজবাড়ী জেলা অফিস থেকে ফোন করে তার ফাইল ফেরত আনেন তাজমুন্নাহার। পরে বাধ্য হয়ে টাকা দেওয়ার পর সেই কাগজপত্র আবার জেলায় পাঠানো হয়। শিক্ষকদের মধ্যে একতা না থাকার বিষয়টিও উঠে এসেছে।
আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষক অন্য একটি অডিও রেকর্ডে বললেন, শিক্ষা কর্মকর্তাকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।
এছাড়া বেতাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সবুর খান অভিযোগ করেন, চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য ১০১ জন শিক্ষকের কাগজপত্র জমা দেওয়া হলে, শিক্ষা কর্মকর্তা মাত্র ৫ জনের ফাইল পাঠিয়েছেন। ৯৬ জনের ফাইল ঘুষ না পাওয়ায় আটকে রাখা হয়েছে।
কোমরদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিরুপম চৌধুরী জানান, অর্থ বছর শেষ হলেও ভোট কেন্দ্র সংস্কারের টাকা তারা পাননি।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাজমুন্নাহার যোগদানের পর থেকেই অনিয়মিতভাবে অফিস করতেন। পরে বিভিন্ন বিল, পেনশন, বেতন সমতাকরণের বকেয়া, স্লিপ ফান্ডের অর্থ ছাড় ও অন্যান্য প্রশাসনিক ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রেখে শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন। ভোটকেন্দ্র সংস্কারের দ্বিতীয় কিস্তির বিলও দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়েছে।
শিক্ষক ফজলুর রহমান জানান, তার যোগদানের পর উপজেল শিক্ষা কমিটির সভা হয়নি। মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে কোনও ভূমিকা নেই।
অন্য শিক্ষকের মতে, পুরো উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থা একক সিদ্ধান্তে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি যোগ করেন, অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই হয় না। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অতিরিক্ত দামে বিক্রি করতে বাধ্য করছেন।
শিল্পীত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বললেন, ১ তারিখের তদন্তে তিনি কোনো নোটিশ পাননি।
তবে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. তাজমুন্নাহারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয়ে ফোন কেটে দেন। এরপর হোয়াটসঅ্যাপ ও মোবাইল নম্বরে বার্তা পাঠানো হলেও উত্তর পাওয়া যায়নি।
রাজবাড়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. তবিবুর রহমান বললেন, বিষয়গুলি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। স্কুলের অ্যাকাউন্টে বিল ব্যবস্থাপনার বিষয়টি খতিয়ে দেখে অধিদপ্তরকে অবহিত করবেন।
ঢাকা বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. আবদুল আজিজের মতে, অভিযোগ অনেক। কাগজপত্র দেখে তারপর মন্তব্য করা হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন সাংবাদিককে জানান, বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে।
তাজমুন্নাহারের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে বালিয়াকান্দিতে যোগদানের পূর্বে ধামরাই, নগরকান্দা ও নরসিংদীর শিবপুরে দুর্নীতি ও ১০% কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ছিল। নগরকান্দায় শিক্ষকদের টাকা খরচ করে টাকা আদায়ের বিষয়েও অভিযোগ হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ধামরাই থেকে তাকে বদলি করা হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন