ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

জুলাই শহীদদের স্বপ্নের দেশ গড়তে নাগরিকদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


জুলাই শহীদদের স্বপ্নের দেশ গড়তে নাগরিকদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজেদের অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘৭১ ও ২৪-এ যারা দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য লড়াই করা, যেখানে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে এবং সবাই শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।’

সোমবার বিকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশ স্কাউটসের শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সমর্থন চায় বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ কথা জানান।

তিনি জানান, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল দেশে একটি পরিবর্তন আনা। এমন একটি পরিবর্তন, যার মধ্য দিয়ে মানুষের মৌলিক চাহিদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষ অন্তত শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।’

শহীদদের আত্মত্যাগের ঋণ শোধ করার ক্ষমতা কারও নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা শহীদ হয়েছেন, তারা একটি মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য লড়াই করতে গিয়ে তাদের জীবন দিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে হলে শুধু তাদের স্মরণ করলেই হবে না; তাদের মধ্যে থেকে আমরা যারা বেঁচে আছি, আমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ জায়গা থেকে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।'

বাংলাদেশ স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।'

আরও পড়ুন: গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলন: তিন মামলায় ৪ হাজার আসামি, গ্রেপ্তার ৩০

তিনি বলেন, 'মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রাণ-প্রকৃতির পাশে থাকার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি অন্যদেরও এ কাজে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশ স্কাউটসের ১০ শহীদ পরিবারের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক ও সম্মাননা পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

উপ-প্রেস সচিব জানান, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি নাসিমুল গণি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের অবদান ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে জাতীয় পাঠ্যক্রমে তাদের ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনসহ জুলাই গণঅভ্যূত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: টিন নিয়ে বিপাকে? বাতিল করতে পারবেন যেসব শর্তে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস এডিবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২৮ পি.এম


টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস এডিবির

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট ইংমিং ইয়াং। এ সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয় সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে, মন্ত্রীর কার্যালয়ে।

এই সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ এবং এডিবির মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করা এবং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সাক্ষাতে জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমন, জলবায়ু অর্থায়ন বৃদ্ধি, বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বায়ু ও প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং পরিবেশসম্মত নগর ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। এছাড়া, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগসহিষ্ণু অবকাঠামো নির্মাণে এডিবির কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ দায়ী না হলেও এটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম।"

তিনি আরো জানান, "মানুষের জীবন, জীবিকা ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষায় সরকার অভিযোজন ও প্রশমন—উভয় ধরনের কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।" এসব কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগীদের পর্যাপ্ত, সহজলভ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রয়োজন। এর জন্য প্রথমে নিজেদের অগ্রাধিকারগুলো নির্বাচন করতে হবে। মন্ত্রী পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ুসহিষ্ণু উন্নয়নে এডিবির সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইংমিং ইয়াং বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গৃহীত উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ুসহিষ্ণু অবকাঠামো, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য এডিবির সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ চলমান সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনা করেন এবং নতুন প্রকল্প ও কর্মসূচি গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে একমত পোষণ করেন। ভবিষ্যতে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ প্রকাশ করেন। বৈঠকে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ ও এডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভিবাসন ব্যয় কমাতে কাজ করছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ পি.এম


অভিবাসন ব্যয় কমাতে কাজ করছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশি কর্মীদের অভিবাসন খরচ অন্য দেশের তুলনায় বেশি। অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারণে জমিজমা বিক্রি করে প্রবাসীদের বিদেশে আসতে ১০ থেকে ১৪ লাখ টাকা খরচ করে যেতে হয়।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এই খরচ কমিয়ে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট), সিঙ্গাপুরে ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ রেমিট্যান্স সম্মাননা-২০২৬ সিঙ্গাপুর’ অনুষ্ঠানে তিনি এইসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশ রেমিট্যান্স সম্মাননা ২০২৫-সিঙ্গাপুর’-এর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার দ্বিতীয়বারের মতো এই আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখা প্রবাসীদের সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের গর্ব ও শক্তি। তাদের কঠোর পরিশ্রম একটি দিকে পরিবারের জীবনমান উন্নত করছে এবং অন্য দিকে দেশের অর্থনীতির ভিত শক্তিশালী করছে।

তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় দেড় লাখ বাংলাদেশি সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে কর্মরত রয়েছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে এসেছে প্রায় ৪৭৫ দশমিক ০৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তিনি উল্লেখ করেন, অভিবাসীদের সেবা ও সমস্যা দ্রুত সমাধান করার জন্য ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি পৃথক অভিবাসন শাখা খোলা হয়েছে। এটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ কর্মদল হিসেবে কাজ করছে।

বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে জনশক্তি ও কর্মসংস্থান সহযোগিতা আরো সম্প্রসারিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন, পুনঃকর্মসংস্থান, আন্তঃপ্রতিষ্ঠান কর্মী স্থানান্তর এবং ন্যায্য কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

শামা ওবায়েদ সিঙ্গাপুরপ্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঁচটি বিষয়ে বিশেষ অনুরোধ জানান। এগুলো হলো—হুন্ডি পরিহার করে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো, সিঙ্গাপুরের আইন ও কর্মসংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল থাকা, উগ্রবাদ ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা থেকে বিরত থাকা এবং নতুন প্রযুক্তি, কারিগরি জ্ঞান ও ভাষা দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ করে তোলা।

তিনি আরো সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ভিন্ন ভাষা ও ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান।

সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্ট কূটনীতিক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সাম্প্রতিক বেতন-বকেয়া ও কর্মসংস্থান হারানো বাংলাদেশি কর্মীদের সহায়তার জন্যও তিনি ধন্যবাদ জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রবাসীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার দেশে স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও একক সেবার আওতাভুক্ত বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করছে। বিদেশে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্স প্রেরক নয়, বরং বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা হিসেবে ভূমিকা পালন করলে দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরে কর্মরত ১৫ জন অসাধারণ প্রবাসী ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে’ সম্মাননা দেওয়া হয়। এ ছাড়া চারটি প্রতিষ্ঠান, দুজন সিআইপি এবং সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশভিত্তিক ব্যাংকগুলোর আওতাধীন শীর্ষস্থানীয় তিনটি এক্সচেঞ্জ হাউজকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে স্মারক তুলে দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাস্পিয়ান সাগর কি নতুন যুদ্ধক্ষেত্র হতে যাচ্ছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ পি.এম


কাস্পিয়ান সাগর কি নতুন যুদ্ধক্ষেত্র হতে যাচ্ছে?

কাস্পিয়ান সাগরে সম্প্রতি একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলা সৃষ্টি করেছে মারাত্মক ঝুঁকি যা মধ্যপ্রাচ্য-পূর্ব ইউরোপের যুদ্ধকে একসূত্রে গেঁথে ফেলেছে। এই ঘটনার পর, ২৫ জুলাই কেবল এক তরুণ নাবিকের প্রাণই কেড়ে নেওয়া হয়নি বরং এটি ইরান-ইউক্রেন সম্পর্ককে এক অভূতপূর্ব সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বহির্বিশ্বের জন্য এটি অবশ্যই শঙ্কার কারণ, কারণ সংঘাতের সীমান্ত কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

নিহত তরুণ ইরানি নাবিকের নাম হচ্ছে নিমা মোরাদি, যিনি মাত্র ২৩ বছর বয়সী ছিলেন। তিনি উত্তর ইরানের বন্দর নগরী বান্দারে আনজালি থেকে এসেছিলেন এবং শৈশব থেকেই নাবিক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। আয়রন আকরিক বোঝাই 'আনা' নামক জাহাজে রাশিয়া থেকে ইরানে ফেরার প্রক্রিয়ায় ইউক্রেনীয় দূরপাল্লার ড্রোনের আঘাতের ফলে নিমা নিহত হন, আর জাহাজের অন্য একজন কর্মী গুরুতর আহত হন। নিমার এই অকাল প্রয়াণের জন্য আজ তার পরিবার এবং পুরো ইরানি সমাজ গভীর শোকে নিমজ্জিত।

ঘটনার পরপরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছিলেন, ইউক্রেনের এই পদক্ষেপ হচ্ছে জাতিসংঘের সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি অভিযোগ করেন, এই আঘাত ইউরোপকে যুদ্ধের দিকে টেনে আনতে ইসরায়েলের উসকানির ফলস্বরূপ হয়েছে। অন্যদিকে, এই হামলা নিয়ে তেল আবিব এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করায়, ঘটনাটির পেছনে থাকা ভূ-রাজনৈতিক চাল সম্পর্কে সংশয় বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রথমত, ইরান এই হামলার উপর অত্যন্ত কঠোর সামরিক জবাব দেয়ার পরিকল্পনা করছিল ইউক্রেনের তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিতে। তবে পরে কিয়েভের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশের পর এবং তেহরানের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করার প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে। কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, ইরানের এই নীরবতা বা নমনীয়তা স্থায়ী নয় বরং তেহরান নতুন কোনো ফাঁদে না পড়ার জন্য এখন সময় নিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন এবং রাশিয়ার যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতকে একত্রিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইউক্রেন দীর্ঘকাল ধরে রাশিয়া ও ইরানকে একই অক্ষের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাচ্ছে। তালিকাভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়াশিংটনের নজর এবং সামরিক সম্পদ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে চলে যাওয়া, ফলে কিয়েভ সামরিক ও অর্থনৈতিক ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই ইউক্রেনীয় নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন যে, ইরানকে এই সংঘাতে টেনে নিলে আমেরিকার সমর্থন ইউক্রেনের দিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ইউক্রেনীয় এই কৌশলের মাধ্যমে ইসরায়েলও সরাসরি লাভবান হতে পারে। এর ফলে মার্কিন-ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত হবে এবং ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি এই যুদ্ধের অংশ হয়ে উঠবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ইসরায়েল বিশ্বজুড়ে তার ভাবমূর্তির সংকট কাটিয়ে উঠতে এই যুদ্ধকে নিজেদের সুরক্ষার পরিবর্তে ইউক্রেনকে রক্ষার যুদ্ধ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করার সুবর্ণ সুযোগ পেতে যাচ্ছে।

ঐতিহাসিকভাবে, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক সবসময় সহজ ছিল না। ঊনবিংশ শতাব্দীতে অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি এবং বিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক টানাপোড়েনে দুটি দেশ একে অপরকে সন্দেহের চোখে দেখেছিল। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পরও মস্কো ও তেহরানের নীতিগত দূরত্ব বজায় ছিল। তবে সময় ও দূরদর্শী রাজনীতির কারণে তা পরবর্তীতে কৌশলগত ও সামরিক অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে। যৌথ প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর তাগিদ আজ রাশিয়া ও ইরানকে এক ছাতার নিচে এনে দাঁড় করিয়েছে।

কাস্পিয়ান সাগরের মতো সুরক্ষিত এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীন একটি অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য মারাত্মক সতর্কবার্তা। এই পানিপথটি কেবল একটি সীমান্ত বা রুট নয় বরং রাশিয়া ও ইরানের জন্য বিশ্ব নিষেধাজ্ঞার ফাঁক গলে অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ইউক্রেনীয় এই হামলার ফলে জানানো হচ্ছে যে, বৈশ্বিক অস্থিরতার মানচিত্র ক্রমাগত নতুন নতুন পানিপথ ও ভূখণ্ডে প্রসারিত হচ্ছে, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে বিশ্বব্যবস্থার জন্য দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেহেরপুরে মানব ও ট্যাংকবিধ্বংসী ৯৬ ল্যান্ডমাইন উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩১ পি.এম


মেহেরপুরে মানব ও ট্যাংকবিধ্বংসী ৯৬ ল্যান্ডমাইন উদ্ধার

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে মাটির নিচ থেকে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ৯৬টি ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া এসব ল্যান্ডমাইনগুলোর মধ্যে ৭৯টি মানববিধ্বংসী এবং ১৭টি ট্যাংকবিধ্বংসী।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে যশোর সেনানিবাস থেকে আসা সেনাবাহিনীর ১৯ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ধাপে ধাপে মাটি খনন করে উদ্ধার করা ৯৬টি ল্যান্ডমাইন।

পুলিশ এবং বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বেতবাড়িয়া গ্রামের কৃষক কালু মালিথা গত শনিবার জমিতে কাজ করার সময় মাটির নিচে বিস্ফোরকসদৃশ একটি বস্তু দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ এবং বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জমিটি ঘিরে রাখে।

নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় দুই দিন ধরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পরবর্তীতে যশোর সেনানিবাস থেকে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহিত ল্যান্ডমাইনগুলোর উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

ধাপে ধাপে মাটি খনন করে একটির পর একটি ৯৬টি ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সেনাবাহিনী সদস্যরা গ্রাম থেকে বেশ দূরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। সেখানেই নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরনের মাধ্যমে ল্যান্ডমাইনগুলো ধ্বংস করা হয়। অভিযানে সেনাবাহিনীর মেজর তরিকুল ইসলাম নেতৃত্ব দেন।

গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক ল্যান্ডমাইন উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে রাখা হয়েছে। আশপাশে আর কোনো বিস্ফোরক রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এলাকা পর্যবেক্ষণ করছে।

এদিকে, একসাথে এত বিপুলসংখ্যক ল্যান্ডমাইন উদ্ধার হওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে এসব বিস্ফোরক কিভাবে ওই জমিতে এলো এবং আশপাশে আরও মাইন রয়েছে কিনা। তাঁরা পুরো এলাকায় আরেকটি তল্লাশির দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%