প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জ্বালানি এবং খুচরা যন্ত্রাংশের তীব্র সংকটে কিউবার বিদ্যুৎ খাত আগে থেকেই টালমাটাল ছিল। এ অবস্থার মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে আসায় মুহূর্তের মধ্যে পুরো দেশ অন্ধকারে তলিয়ে যায়।
রবিবার (২ আগস্ট) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ঘোষণার মাধ্যমে কিউবার রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ কোম্পানি ‘ইউনিয়ন ইলেকট্রিকা’ (ইউএনই) এ তথ্য জানায়। তবে বিপর্যয়ের নির্দিষ্ট কারণ, এর বিস্তৃতি এবং কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এর পূর্বে রাজধানী হাভানায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ছিল অস্থির। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ট্রান্সফরমারের ত্রুটি, সার্কিট বিকল হওয়া এবং উৎপাদন ঘাটতির কারণেই পরিকল্পিত লোডশেডিং চালু রাখতে হচ্ছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ভোর থেকেই গুয়ানাবাকোয়া, হাবানা দেল এস্তে, লা লিসা ও মারিয়ানাওসহ নানা পৌরসভা থেকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়ে।
সাধারণত এমন দেশব্যাপী ব্ল্যাকআউটের ক্ষেত্রে প্রথমে হাসপাতাল, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতের মতো জরুরি খাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিচ্ছিন্ন ছোট পাওয়ার নেটওয়ার্ক চালু করা হয়। তারপর ধাপে ধাপে বড় পাওয়ার স্টেশনগুলোকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে পুনঃসংযুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।
দেশব্যাপী ঘন ঘন ব্ল্যাকআউট:
রোববারের এই ঘটনা চলতি বছর দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ধারাবাহিক ব্ল্যাকআউটের সর্বশেষ উদাহরণ। এর আগে জুলাই মাসে মাত্র নয় দিনের ব্যবধানে তিনবার জাতীয় গ্রিড বিপর্যয় ঘটেছে, যার মধ্যে একই সপ্তাহে দুবার পুরো দেশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এর একটি বিপর্যয়ে প্রায় এক কোটি মানুষ অন্ধকারে যায়। সেবারের পরে নেটওয়ার্ক পুনরায় চালু করার পরও চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে না পারায় সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কর্তৃপক্ষকে চরম কষ্টের মধ্যে পড়তে হয়েছিল।
জ্বালানি ও যন্ত্রাংশের অভাব এবং পুরোনো থার্মোইলেকট্রিক বা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বারবার ত্রুটির কারণে কিউবার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আজ চরম অবস্থায় রয়েছে। দেশটির কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়স ৩০ বছরেরও বেশি এবং এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণও খুবই সামান্য হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে দুষছে কিউবা সরকার:
কিউবা সরকারের অভিযোগ, এই সংকটের পেছনে ওয়াশিংটন দায়ী। যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় তেল সরবরাহের পাশাপাশি অর্থায়ন ও সরঞ্জাম পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অপহৃত হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার ওপর তেল অবরোধ আরোপ করেন, যার ফলে কিউবা তাদের জ্বালানির প্রধান উৎস হারায়।
দীর্ঘদিন ধরেই কিউবার প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশ ছিল ভেনেজুয়েলা। কিন্তু ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে মেক্সিকো থেকেও তেল আমদানিতে বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, বিশ্লেষকদের এক অংশের মতে, দশকের পর দশক ধরে বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের অভাব এবং অব্যবস্থাপনাই মূলত এই তীব্র সংকটের জন্য দায়ী।
দীর্ঘস্থায়ী এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দেশটির পরিবহন ব্যবস্থা, পানি সরবরাহ, টেলিযোগাযোগ ও চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্রীষ্মের এই প্রচণ্ড গরমে খাবার সংরক্ষণ, রান্না করা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানোর জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের।
সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন