প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৮ আগস্ট, ২০২৬: আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের দাশতে বারচি এলাকার একটি স্কুলের কাছে সংঘটিত ভয়াবহ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের আফগানিস্তান বিষয়ক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ রিচার্ড বেনেট।
এটি একটি ব্যাপক ও ক্ষতিকর ঘটনা, যেখানে বিপুল সংখ্যক শিশু আহত হয়েছে, বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা এএফপিকে।
জাতিসংঘের আফগানিস্তান বিষয়ক মানবাধিকার বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট বলেন, ঐতিহাসিকভাবে নিপীড়নের শিকার শিয়া হাজারা সম্প্রদায়ের বসবাসের এলাকা পশ্চিমাঞ্চলীয় দাশত-ই-বারচিতে এই ‘দুঃখজনক’ হামলায় অনেক শিশু আহত হয়েছে। সংবাদটি কাবুলের বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।
বেনেট তাঁর এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘হামলার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্ত অত্যন্ত জরুরি।’
কাছাকাছি বসবাসকারী ৩৮ বছর বয়সী এক বাসিন্দা এএফপিকে জানান, সোমবার মেয়েদের ও ছেলেদের জন্য পরিচালিত একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের ছুটির সময় বিস্ফোরণ ঘটে। নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই নারী বলেন, ‘আমি যতটুকু দেখেছি, স্কুলের আঙিনায় থাকা শিশুরা আহত হয়েছে। আর যারা এরই মধ্যে স্কুল থেকে বের হয়ে গিয়েছিল, তারা নিরাপদ ছিল।’
তিনি আরো জানান, আহত শিশুদের অ্যাম্বুলেন্স ও গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘এত বেশি মানুষ আহত হয়েছিল যে আমি গুণে শেষ করতে পারিনি।’
কাবুল পুলিশ এএফপিকে জানায়, একটি স্কুলে ‘হাতবোমার বিস্ফোরণ’ ঘটেছে। এতে ‘বেশ কয়েকজন শিশু সামান্য আহত হয়েছে।’ এর পর কাবুল পুলিশ মুখপাত্র খালিদ জাদরান সোমবার রাতে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দলগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।’
দ্বিতীয় এক বাসিন্দাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মঙ্গলবার ওই এলাকা নিরাপত্তা বাহিনী ঘিরে রাখে।
তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত পাঁচ বছরে কাবুলে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন হামলা হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে একটি চীনা রেস্তোরাঁয় বিস্ফোরণে অন্তত সাতজন নিহত হন।
দাশত-ই-বারচি এলাকায় এর আগে একাধিক প্রাণঘাতী বিস্ফোরণ ঘটেছে। ২০২১ সালে মেয়েদের একটি স্কুলের বাইরে গাড়িবোমা হামলায় অন্তত ৯০ জন নিহত এবং আরও কয়েক শত মানুষ আহত হন।
ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠী দাশত-ই-বারচিতে চালানো হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা শিয়াদের ‘ধর্মত্যাগী’ মনে করে তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন