প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ওলামা লীগ নেতা মাওলানা শেখ সাইফুল আলম সিদ্দিকী শেফুলের বিএনপিতে যোগদানের ছবি ও খবর সামাজিক মাধ্যমে এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক কয়েকদিন ধরে এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা চলছে।
ঘটনার শুরুটি ঘটে, যখন শেখ সাইফুল আলম সিদ্দিকী কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে এসে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকুকে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদানের দাবি জানিয়ে কিছু ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ছবিগুলোতে দেখা যায়, শেখ সাইফুল আলম সিদ্দিকী প্রবীণ ও তরুণ বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ফুলের তোড়া ও মালা বিনিময় করছেন এবং হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় রয়েছেন। বিএনপির কার্যালয়ে উপস্থিত নেতাদের মধ্যে ছিলেন—উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, সাবেক আহ্বায়ক রেদোয়ান খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ চৌধুরী, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুক্তাদির মনু এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রেজাউল আলম ভূঁইয়া খোকনসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী। এছাড়া ভাটেরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজাদ সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রনি হাসান সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আকুল খানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, প্রবাসী ও দেশে অবস্থানরত বিএনপি সমর্থক ও কর্মীরা সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। লন্ডন প্রবাসী বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান তাঁর ফেসবুক পেজে উল্লেখ করেন, "যে দোসর বিগত দিনে আমাদের মরহুম দেশনেত্রীকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করল, সে কীভাবে বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে দলের মনোনীত এমপিকে ফুল দেওয়ার সৎ সাহস পেল? তার ফুল গ্রহণ করার ঘটনায় দেশনেত্রীর আদর্শের কর্মীদের মনে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।"
অন্যদিকে, লন্ডনের আরেক প্রবাসী বিএনপি নেতা খন্দকার করিম মন্তব্যে লেখেন, "যে ব্যক্তি কিছুদিন আগেও আমাদের দেশনেত্রীকে নিয়ে কটু কথা বলেছেন, তিনি আজ কীভাবে বিএনপির কার্যালয়ে সংসদ সদস্যকে শুভেচ্ছা জানাতে যান? বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁর ফুল গ্রহণ করার বিষয়টি নিঃসন্দেহে অনুসারীদের মনে গভীর আঘাত দিয়েছে। রাজনৈতিক সৌজন্য থাকতে পারে, তবে অতীতের আচরণেরও তো মূল্যায়ন থাকা উচিত।"
এদিকে, সমালোচনার প্রেক্ষিতে গত ৩১ অক্টোবর সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু নিজের ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতিতে দাবি করেন, এটি কোনো যোগদান অনুষ্ঠান নয়, বরং কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। তিনি বলেন, "সাইফুল আলম সিদ্দিকী আমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্দেশনা অনুযায়ী দলে নতুন করে সদস্য যোগদানের সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।"
কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকেও বিষয়টিকে নিছক ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলে একটি লিখিত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু জানান, "আমেরিকা প্রবাসী শেখ সাইফুল আলম সিদ্দিকী শেফুল বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন। আমাদের কার্যালয়ে কয়েকজন নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে তিনি হঠাৎ কয়েকজন লোক নিয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকুর সঙ্গে দেখা করতে আসেন এবং ফুল বিনিময় করেন। তিনি কোনো দল করেন কি না আমাদের জানা নেই, তবে তিনি আওয়ামী পরিবারের সন্তান এবং অতীতে শেখ হাসিনার জন্য অনুষ্ঠানে দোয়া করার ইতিহাস আছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দলে নতুন যোগদানের কোনো নির্দেশনা নেই।"
উল্লেখ্য, ধনাঢ্য ব্যক্তি শেখ সাইফুল আলম সিদ্দিকী শেফুল দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তিনি আসন্ন কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী বলেও জানা গেছে। সম্প্রতি দেশে ফিরে বিএনপির কার্যালয়ে ফুলের তোড়া দেওয়া ও পরবর্তীতে ভাটেরা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
এমএইচ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন