প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে একটি বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
উপজেলার পাঁচটি মাদ্রাসার কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। পুরো উপজেলায় দাখিল পরীক্ষার পাসের হার মাত্র ৩৪ দশমিক ৪১ শতাংশে নেমে এসেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ভাণ্ডারিয়ার ৩৬টি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৭৭০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে কেবল ২৬৫ জন পাস করেছে, আর ৫০৫ জন ফেল করেছে। এছাড়া, জিপিএ-৫ পেয়ে এসেছে মাত্র ৫ জন পরীক্ষার্থী।
শতভাগ ফেল করা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো রাজপাশা বালিকা দাখিল মাদ্রাসা, পশারিবুনিয়া নূর মোহাম্মদ কারিগরি দাখিল মাদ্রাসা, জামেই উম্মুল কোরআন ঈদগাহ দাখিল মাদ্রাসা, দারুল মুহাম্মদ আদর্শ বালিকা দাখিল মাদ্রাসা এবং চরখালী দাখিল মাদ্রাসা। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে যথাক্রমে ৮, ১৭, ১১, ১০ ও ৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল, কিন্তু একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
এ ছাড়া, উপজেলার কয়েকটি মাদ্রাসার ফলাফলও অত্যন্ত নিম্নমুখী। নয়াখালী মাটিভাংগা আলিম মাদ্রাসায় ১৭ জনের মধ্যে মাত্র একজন পাস করেছে, যার পাসের হার ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আর আতরখালী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় ১২ জনের মধ্যে একজন পাস করেছে, যার পাসের হার ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আলগাজ্জালি ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় ৫৭ জনের মধ্যে ১০ জন পাস করেছে, যার পাসের হার ১৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ভান্ডারিয়া শাহাবুদ্দিন কামিল মাদ্রাসায় ৫০ জনের মধ্যে ১৪ জন পাস করেছে, পাসের হার ২৮ শতাংশ। সিংহ খালি দাখিল মাদ্রাসায় ১৮ জনের মধ্যে দুই জন পাস করেছে, পাসের হার ১১ দশমিক ১১ শতাংশ। পূর্ব মাটি ভাঙ্গা মোন্তাজিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৪ জনের মধ্যে দুই জন পাস করেছে, পাসের হার ১৮ দশমিক ২৮ শতাংশ।
একটি উপজেলায় দাখিল পরীক্ষায় সামগ্রিক পাসের হার ৩৪ শতাংশের বেশি এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীও পাস না করায় স্থানীয় সুশীল সমাজের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি এবং ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান এই বলেন, ভান্ডারিয়া উপজেলায় এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও দাখিল পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক ছিল না। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে একজনও পাস করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে শোকজ করা হবে। একই সঙ্গে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন