প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মাদক ও নানা অপরাধ নিয়ে একের পর এক ঘটনা যেন ঘটেই চলেছে। সর্বশেষ রবিবার (১৪ জুন) রাতে উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড়াইল দাস পাড়ায় (হিন্দু পাড়া) এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখা এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গোলাগুলির ঘটনায় একজন নারী (৪০) আহত হয়েছেন।
তবে গোলাগুলির ঘটনায় এক ব্যক্তি (২৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর তার লাশ গুম করা হয়েছে বলে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন উঠেছে। ইতিমধ্যে ফেসবুকে ওই ব্যক্তির ছবিসহ ঘটনাটি ভাইরাল হয়েছে।
আলোচিত ঘটনাটি জানার পর সোমবার (১৫ জুন) সকালে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক, নবীনগর থানার ওসি মোরশেদুল আলম চৌধুরী এবং ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ও জেলার গোয়েন্দা পুলিশের দুটি দল ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত, সকাল থেকে বিপুল পরিমাণ পুলিশ সেখানে অবস্থান করছে বলে কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ওবায়দুর রহমান।
তবে ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ভীতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা সমৃদ্ধ সলিমগঞ্জ ও বড়িকান্দি ইউনিয়ন দুইটির নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য, মাদক, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের মতো নানা অপরাধের সম্রাট হিসেবে পুলিশি তালিকায় সুপরিচিত মন্নাফ মিয়া ওরফে মনেক ডাকাত। তার বিরুদ্ধে নবীনগর থানাসহ বিভিন্ন থানায় ৩০টিরও বেশি মামলা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মনেক ডাকাতের বাড়ি সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের নূরজাহানপুর গ্রামে।
অন্যদিকে, মনেক ডাকাতের মূল প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে এলাকার এমরান মাস্টার, যিনি পুলিশের এক এসপি পদ মর্যাদার কর্মকর্তার ভাই। এমরান মাস্টারের বাড়ি সলিমগঞ্জের পার্শ্ববর্তী বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামে।
কিছুদিন আগে, মনেক বাহিনীর গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে এমরান মাস্টার বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী এ প্রতিবেদককে বলেছেন, এলাকার আধিপত্য নিয়ে গত ১ নভেম্বর এমরান মাস্টারের বাহিনীর সদস্য রিফাতের গুলিতে বড়িকান্দি গণিশাহ বাজারে মনেক ডাকাতের ছেলে একাধিক মামলার আসামি শিপন মিয়াসহ (২৮) দুজন নিহত হন। ওই ঘটনায় তখন দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ওই ঘটনার জের ধরে এবং এলাকায় মাদক বিক্রিসহ নানা অপরাধ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখতে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ মনেক ডাকাতের দুই ছেলে সুমন ও নোমান গত রবিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিক থেকে বাড়াইল দাস পাড়ায় (হিন্দু পাড়া) মাদক বিক্রেতা রিফাতের সমর্থক জনৈক সামিরের বাড়িতে হঠাৎ গুলি চালিয়ে প্রবেশ করে। এই পরিস্থিতিতে, গুলির তীব্র আওয়াজে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, সেসময় রিফাত (২৫) মাদক বিক্রেতা সামিরের ঘরেই অবস্থান করছিলেন। ওই হামলায় এক নারী (৪০) গুলিবিদ্ধ হন, এভাবে জানা গেছে।
এলাকাবাসী আরও জানিয়েছেন, গোলাগুলির মধ্যে আলোচিত একজন ব্যক্তি (২৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিখোঁজ হলে মনেক বাহিনী ওই ব্যক্তির লাশ গুম করেছে বলে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যা ফেসবুকে ছবি সহ ভাইরাল হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ক্ষোভের সাথে জানিয়েছেন, এত বড় ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনার পর এবং এলাকায় পুলিশ টহলে থাকার পরও মনেক বাহিনী সোমবার দুপুরে গণিশাহ বাজারে প্রকাশ্যে এক এনজিওকর্মীর কাছ থেকে অস্ত্র ঠেকিয়ে নগদ ২ লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
এই ঘটনার কারণে এখন পুরো এলাকায় মনেক বাহিনীর ভয়ে চরম ভীতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে, বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী কালের কণ্ঠকে।
এ বিষয়ে সোমবার কথা বলতে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ওবায়দুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, ‘ঘটনা শোনার পর সোমবার সকালেই একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের দুটি টিম এলাকায় গিয়ে বিষয়টির তদন্ত করছেন।’
তিনি জানান, গোলাগুলির ঘটনায় প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং একজন নারী আহত হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে একজন ব্যক্তি ‘গুলিবিদ্ধ’ ও ‘নিখোঁজ’ হওয়ার পর তার লাশ ‘গুম’ করার ব্যাপারে তথ্যে প্রমাণ এখনও পুলিশ খুঁজে পায়নি। তবে এরকম খবর ফেসবুকে আমরাও দেখেছি।
তিনি আরও জানিয়েছেন, তাই পুলিশ গুরুত্বসহকারে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে, এ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন