প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে অতীতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ শিশু যৌন নিপীড়ন ও দলবদ্ধ ধর্ষণের একটি ঘটনায় তিন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতসহ মোট আটজন পুরুষের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। দক্ষিণ ওয়েলসের গুয়েন্ট পুলিশ বিভাগ গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে দীর্ঘ ও জটিল তদন্ত শেষে দেশের নিউপোর্ট, সোয়ানসি, লন্ডন, বার্মিংহাম, ল্যাঙ্কাশায়ার, এডিনবার্গ এবং স্কটল্যান্ডের আর্গিল অ্যান্ড বিউট এলাকা থেকে এই আট ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। ‘অপারেশন ওক’ নামক বিশেষ অভিযানের আওতায় এই চক্রটির বিরুদ্ধে মোট ৩৪টি সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে ১৭টি ধর্ষণের ঘটনা রয়েছে। আদালতের নথি ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে শিশু অবস্থায় যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া বেশ কয়েকজন নারী সম্প্রতি এই অভিযোগগুলো দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের বয়স বর্তমানে ৫৪ থেকে ৭৩ বছরের মধ্যে এবং তারা সবাই ব্রিটিশ নাগরিক। তবে অভিযুক্তদের নাম ও পরিচয় বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এদের মধ্যে মোহাম্মদ শেখ আব্দুল হান্নান, শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহ এবং আমিনুর রহমান চৌধুরী নামের তিনজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক রয়েছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে বার্মিংহামের শাফাক মোহাম্মদ (৫৮) বিরুদ্ধে ১১ বছরের কম বয়সি ও ১৬ বছরের ঊর্ধ্বের নারী ধর্ষণসহ মোট ১১টি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এডিনবার্গের মোহাম্মদ শেখ আব্দুল হান্নানের (৫৪) বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ষড়যন্ত্রসহ আটটি অভিযোগ রয়েছে এবং ল্যাঙ্কাশায়ারের শাকিল বাবুরের (৫৮) বিরুদ্ধে ১৬ বছরের কম বয়সি শিশুকে শ্লীলতাহানির চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে নিউপোর্টের সৈয়দ মোহাম্মদ আশান তাকভি (৬৫) এবং সোয়ানসির মুরাদ আলীর (৫৭) বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। নিউপোর্টের শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহর (৭৩) বিরুদ্ধে দুটি ধর্ষণের এবং টটেনহ্যামের আমিনুর রহমান চৌধুরীর (৫৮) বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। স্কটল্যান্ডের কেভিন লরেন্সের (৫৪) বিরুদ্ধে ধর্ষণের ষড়যন্ত্র ও পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার তিনটি অভিযোগ রয়েছে। ওয়েলসের প্রধান ক্রাউন প্রসিকিউটর জেনি হপকিন্স জানিয়েছেন, মামলাটি আদালতে তোলার জন্য এবং জনস্বার্থে অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিচার নিশ্চিত করতে প্রসিকিউটররা যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তাদের ন্যায্য বিচার পাওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। আগামী ২৪ জুলাই নিউপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই আট আসামিকে হাজির করার কথা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন