প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২, যা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, আজই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে যাচ্ছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার ফলে দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয় এবং লোডশেডিং বৃদ্ধি পায়।
আদানি পাওয়ার আজ রবিবার সকালে একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ইউনিট-২ ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়) নির্ধারিত সময়ের আগেই সফলভাবে চালু করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে ইউনিটটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যাবে। ফলে দুপুরের আগেই বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
এর আগে রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকে ঘণ্টায় এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সরবরাহ কমে ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে।
কয়লা সরবরাহ সংকটের কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদনও কমে গিয়েছিল। গত ৭ আগস্ট থেকে ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। আগস্টের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার পর উৎপাদনও বাড়তে শুরু করে। দিনের বেলায় কেন্দ্রটি প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বাধিক এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। উৎপাদন বাড়ানোর পর একটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে সেটি বন্ধ হয়ে যায়।
আদানি কেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ হওয়ার সময় দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থা চাপের মধ্যে ছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছিল প্রায় ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় তিন হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। ওই দিন গড়ে প্রতি ঘণ্টায় দুই হাজার ৬৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে কেন্দ্রটির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রটি থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড রয়েছে। তাই বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় চালু হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি কিছুটা কমবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন