প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিগত সরকারের সময়কালে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) সহ বিভিন্ন পরিসংখ্যানে কিছু গরমিল চিহ্নিত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত কমিটি ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে এসব অসংগতি শনাক্ত করেছে। বর্তমানে বিশেষজ্ঞ একটি কমিটি প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করছে। পর্যালোচনার পর শিগগিরই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হবে।
রোববার জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকির বক্তব্যেও একই তথ্য উঠে এসেছে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন, বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার।
দেশের উন্নয়ন ও পরিকল্পনায় নির্ভুল এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস পালন করা হয়। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য হলো নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য পরিসংখ্যান, টেকসই উন্নয়ন ও পরিকল্পনার ভিত্তি।
অনুষ্ঠানে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "প্রশ্নবিদ্ধ পরিসংখ্যান দিয়ে কোনো কাজ করা যায় না। এটি নিজের সঙ্গে প্রতারণা করার মতো।" তিনি আরও বলেন, সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলো তথ্য। তাই বিবিএসকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে। জনবলের ঘাটতির বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।
ফরেনসিক অডিটের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, "অতীতের কোনো উদ্যোগকে আক্রমণ করা এর লক্ষ্য নয়। বরং সমস্যার গভীরে গিয়ে প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করাই এর উদ্দেশ্য।" সঠিক তথ্য-উপাত্ত ছাড়া বৈষম্য দূর করা কিংবা সুনির্দিষ্ট গবেষণা পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তথ্য ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমির খসরু বলেন, বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে ডিজিটাল অবকাঠামো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ সময় তিনি ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ওয়ালেট, ওয়ান কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও গণমুখী ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হবে। যাতে অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়। সরকার রাজনীতির গণতান্ত্রিকীকরণের পাশাপাশি অর্থনীতিরও গণতান্ত্রিকীকরণ করতে চায়। অর্থনীতি গণমুখী ও গণতান্ত্রিক না হলে রাজনৈতিক গণতন্ত্র অর্থহীন হয়ে পড়ে। অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্তের বিকল্প নেই।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পরিসংখ্যানকে মানুষকে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে মনগড়া পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। নৌ-শুমারিতে এর বড় প্রমাণ পাওয়া গেছে। সেখানে ইঞ্জিনচালিত নৌকার সংখ্যা দেখানো হয়েছিল মাত্র ১৩ হাজার। অথচ প্রকৃত সংখ্যা দুই লাখ ৬৭ হাজার।
উপদেষ্টা আরও বলেন, অতীতের ভুল ও সাজানো তথ্যের ভিত্তিতে নীতি প্রণয়ন করায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। যাদের সহায়তা পাওয়ার কথা, তারা বাদ পড়েছেন। আবার অযোগ্য ব্যক্তিরা সুবিধা পেয়েছেন। বিগত সরকারের অপশাসনের কারণে দেশে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। তাদের প্রকৃত অবস্থা বিবেচনায় ফ্যামিলি কার্ডের সহায়তা পৌঁছাতে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
জোনায়েদ সাকি বলেন, অতীতে জিডিপি যেভাবে নিরূপণ করা হয়েছে, তার যথাযথ বাস্তব ভিত্তি ছিল কিনা, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও বিআইডিএসের যৌথ গবেষণায় জিডিপি নিরূপণের পদ্ধতিতে যথেষ্ট গলদ পাওয়া গেছে। এসব অসংগতি প্রমাণসহ জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধে ইতোমধ্যে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) এখন কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পারসোনাল ইন্টারভিউ (ক্যাপি) পদ্ধতিতে মাঠ পর্যায়ে সংগ্রহ করা হচ্ছে। তথ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে যুক্ত হচ্ছে এবং সেখান থেকে প্রকাশিত হচ্ছে। আগে তথ্য প্রকাশের জন্য মন্ত্রীর স্বাক্ষরের প্রয়োজন হতো। এখন সেই প্রক্রিয়া তুলে দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন